শ্রীকৃষ্ণ


পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে SSS কৃত গবেষণা লব্ধ প্রবন্ধ নিবেদিত হলো -

আমরা যারা হিন্দু ধর্মাবলম্বী তাদের নিকট বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণ এইরুপ গুরুত্ব রাখে যে,"যৎ বাসুদেবঃ কথয়তি‌ তদ্ধর্মঃ যৎ বাসুদেবঃ করোতি তদ্ধর্মঃ। বাসুদেবঃ স্বয়ং ধর্ম।।" (মহাভারত শান্তিপর্ব ১২.২৯) অর্থাৎ বাসুদেব যা বলেন যা করেন তাই ধর্ম। বাসুদেব‌ই স্বয়ং ধর্মস্বরূপ। বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিকট স্বাক্ষাৎ পরমব্রহ্ম বিষ্ণুর পূর্ণাবতার তথা অবতারী," বাসুদেবপরা বেদা বাসুদেবপরামখাঃ।......... বাসুদেবপরো ধর্ম বাসুদেবপরা গতিঃ ।।(শ্রীমদ্ভাগবতম ১.২.২৮) , এতে চাংশকলাঃ পুংসঃ কৃষ্ণস্তু ভগবান্ স্বয়ম। (শ্রীমদ্ভাভাগবতম ১.৩.২৮) "। এই কৃষ্ণাষ্টমী উপলক্ষে উক্ত প্রবন্ধে আমি যোগদর্শনের তিনটি প্রমাণ প্রত্যক্ষ প্রমাণ, অনুমান প্রমাণ এবং শাস্ত্রীয় প্রমাণ ব্যবহার করে আমার আরাধ্য সচ্চিদানন্দময় শুদ্ধব্রহ্ম বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণের অস্তিত্বের ঐতিহাসিক প্রমাণ ও পুরাতাত্ত্বিক প্রমাণ, তাঁর অবতার হ‌ওয়ার কারন ও সেই সম্বন্ধে বিভিন্ন শাস্ত্রীয় প্রমাণ এবং তাঁর জীবনী নিয়ে প্রচারিত বিভিন্ন মিথ্যাচারের খন্ডন করার চেষ্টা করব। আশা করি পাঠকদের এই প্রবন্ধ পড়ে ভালো লাগবে।

★ শ্রীকৃষ্ণের পুরাতাত্ত্বিক অস্তিত্ব ও তাঁর আরাধনার প্রাচীনতা
শ্রীকৃষ্ণের পুরাতাত্ত্বিক প্রমাণের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য প্রমাণ হচ্ছে তাঁর আদেশে বিশ্বকর্মা কর্তৃক নির্মিত দ্বারকা শহর যা মগধের রাজা জরাসন্ধের আক্রমণ থেকে যাদব ও মথুরাবাসীকে বাঁচানোর জন্য শ্রীকৃষ্ণের নির্দেশে বর্তমানে গুজরাটে আরব সাগরে পূর্বে নির্মাণ করা হয় যা মহাভারতের সভাপর্বে, হরিবংশ ও শ্রীমদ্ভাভাগবতমের দশম স্কন্দের ৫০ অধ্যায়ে উল্লেখ আছে। মহাভারত ও শ্রীমদ্ভাগবতমের ১১/৩১/২৩ মতে শ্রীভগবানের অন্তর্ধানের পর সম্পূর্ণ দ্বারকা সমুদ্রে প্লাবিত হয় । পরবর্তীতে সকল বৈষ্ণবদের জন্য এই দ্বারকা নগরীর ও আরব সমুদ্রের তীরঘেষা দ্বারাবতী নদীর তীরে অবস্থিত দ্বারকা ও বেট দ্বারকা মহাতীর্থ ও চারটি ধামের মধ্যে। শ্রীমদ্ভাগবতমের ১১/৩১/২৫ এ উল্লেখ রয়েছে শ্রীভগবানের নিবাস দ্বারকার স্মরণ করলেই সমস্ত পাপ তাপ হরণ হয়। আদিগুরু শঙ্করাচার্য্য খ্রিষ্টীয় ৭ম শতকে গুজরাটে যেই স্থানে শ্রীকৃষ্ণের দ্বারকা অবস্থিত ছিল সেই দ্বারকায় চারমঠের একটি শারদামঠ স্থাপন করেন। সেই দ্বারকার স্থানে তথা আরব সাগর ও বেট দ্বারকায় ডক্টর এস.আর.রাও খনন কালে শ্রীকৃষ্ণের নির্মিত দ্বারকা নগরীর খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ১০০০ এর মধ্যে বহু প্রাচীন পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া যায় (বিংশ শতাব্দীর প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী)। তাই এস.আর.রাও এর মতে শ্রীকৃষ্ণের অস্তিত্ব খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০ বছর নয় বরং খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ বা খ্রিষ্টপূর্ব ১৪০০ মেনেছেন (যদিও তিনি কিন্তু আর্য আক্রমণ তত্ত্ব মানতেন না বরং আর্য আক্রমণ তত্ত্বের খন্ডন কারী বি.বি লালের সাথে ভালো সম্পর্ক ছিল)। এই সম্বন্ধে আরো জানতে চাইলে এস.আর.রাও এর লেখা Marine Archeology in India ব‌ইয়ের ৪৩ থেকে ১৬৮ পৃষ্ঠা পর্যন্ত পড়তে পারেন। ২০১৭ সালের ডিসকোভারির ডকুমেন্টারি Expedition Unknown এর India’s Atlantis বা Dwarka এপিসড দেখতে পারেন যেখানে শ্রীকৃষ্ণ ও তাঁর দ্বারকা নগরীর অস্তিত্ব প্রমাণ করা হয় এবং সেখানে প্রাপ্ত বিভিন্ন পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন খ্রিষ্টপূর্ব ২৫০০ থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০ বছরের, archaeologist Josh Gates এপিসডের শেষে বলেছেন - "We return to the shore with rock-solid proof that in the waters off of modern Dwarka, there is a much older harbour and ancient structures waiting to be excavated. And on land, the discovery of ceremonial jewelry and a massive wall seem to align with the legend of Lord Krishna's holy city. In time, archaeologists may find irrefutable proof that Dwarka isn't just a religious parable in an ancient text. And perhaps Lord Krishna himself may have been a flesh and blood king. I leave India entranced. Swept up in thousands of years of myth, devotion and celebration. I'm eager to see what archaeologists turn up next but for the citizens of modern Dwarka and the nearly billion Hindus around the world, the legend is more than just real. It's divine."- Josh Gates ¹ ।
শ্রীকৃষ্ণের পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনের প্রসঙ্গে বলার পর রথ এবং অশ্ব নিয়ে কিছু কথা বলা উচিত আমার মতে কেননা শ্রীকৃষ্ণের জীবনীতে বিশেষ করে অর্জুনকে যখন ভগবান শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার উপদেশ দিচ্ছেন তখন অশ্ব ও রথ গুরুত্বপূর্ণ। এখন এই রথ ও অশ্ব নিয়ে এই সমস্যা যে এই অশ্ব ও রথ নাকি ৩৫০০-৩০০০ বছর পূর্বে ছিল না কিন্তু শ্রীকৃষ্ণের তো ৫০০০-৪৫০০ বছর পূর্বে ছিলেন,দ্বারকার বিভিন্ন পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন‌ও ৪০০০-৩৫০০ বছর ও ততোধিক বেশি প্রাচীন তাহলে গীতার প্রথম অধ্যায়ে যে অশ্ব রথ কেমনে বর্ণিত হয়েছে। এখন রথ ও চাকা নিয়ে কিছু বলি যে প্রায় ৫০০০-৪০০০ বছর পুরোনো হারাপ্পায় ও রাখিগড়ে রথ ও চাকার বহু প্রাচীন প্রমাণ পাওয়া যায় ² । মধ্যপ্রদেশের চম্বল উপত্যকায় প্রত্নতাত্ত্বিক মধুকর কেশব ২৪৫০-২০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের একটি ঘোড়ার মূর্তি এবং ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে আর্নস্ট জন হেনরি ম্যাকে ও ১৯৬৮ সালে স্যার রবার্ট এরিক মার্টিমার হুইলার মহেঞ্জোদারো থেকে বহু পশু মূর্তি উদ্ধার করেন যার মধ্যে অশ্বমূর্তিও ছিল এছাড়াও সোয়াট উপত্যকাতেও ২০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে অশ্ববলির প্রমাণ পাওয়া যায় ³ ।এমনকি সিনলিতেও ৪০০০ থেকে ৪৫০০ বছরের প্রাচীন অশ্ব ও রথের প্রমাণ পাওয়া গেছে ⁴ । এখন এই বলা ঠিক নয় যে ভারতে অশ্ব,রথ ও চাকার প্রচলন ৩৫০০-৩০০০ বছর পূর্বে ছিল না তাই শ্রীকৃষ্ণ ছিল না। অর্থাৎ দ্বারকাধীশ দেবকীনন্দন বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণ কোন কাল্পনিক চরিত্র নন বরং একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব।শ্রীকৃষ্ণের প্রাচীনতম শাস্ত্রীয় প্রমাণ দিতে হলে প্রথমেই নাম আসবে সামবেদীয় ছান্দোগ্য উপনিষদের। Patrick Olivelle এর The Early Upanishads এ উল্লেখ অনুযায়ী আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৭ম থেকে ৬ষ্ট শতকে ছান্দোগ্য উপনিষদের রচিত করা হয় ⁵ । সামবেদীয় ছান্দোগ্য উপনিষদের ৩/১৭/৭ এ "কৃষ্ণায় দেবকীপুত্রায়" ইত্যাদি শ্রুতিতে দেবকীপুত্র শ্রীকৃষ্ণের কথা উল্লেখ আছে। শঙ্করাচার্য্যকৃত ভাষ্য অনুযায়ী উক্ত শ্রুতিতে ঘোর আঙ্গিরস নামক ঋষি তাঁর শিষ্য দেবকীপুত্র কৃষ্ণকে যজ্ঞবিদ্যা প্রদান করছেন আবার রঙ্গরামানুজ মুনি উক্ত শ্রুতির ভাষ্যে আঙ্গিরস দেবকীপুত্র শ্রীকৃষ্ণকে স্বাক্ষাৎ শাশ্বত পরিপূর্ণ ব্রহ্ম বলেছেন। যাই হোক এই দেবকীপুত্র শ্রীকৃষ্ণ যে মহাভারতের দেবকীপুত্র বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণ‌ই তার উপর বহু যুক্তি দিয়েছেন ভারতীয় ইতিহাসবিদ হেমচন্দ্র রায় চৌধুরী এবং এস আর রাও ছান্দোগ্য উপনিষদের দেবকীনন্দন কৃষ্ণকে দ্বারকাধীশ‌ই মেনেছেন ⁶ ।শ্রীকৃষ্ণের আরেকটি প্রাচীন শাস্ত্রীয় প্রমাণ পাই কৃষ্ণযজুর্বেদীয় তৈত্তিরীয় আরণ্যকের ১০/১৩/১৪ যা খ্রিষ্টপূর্ব ৫ম থেকে ৪র্থ শতকের প্রাচীন। তৈত্তিরীয় আরণ্যকের নারায়ণ সুক্তের নারায়ণ গায়ত্রীতে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীবিষ্ণু,বাসুদেব (শ্রীকৃষ্ণ) এবং নারায়ণ এই তিন নামকে এক রূপে অভিহিত করা হয়েছে। এর পুরাতাত্ত্বিক প্রমাণও রয়েছে রাজস্থানের Hathi Bada Ghosundi inscription যা খ্রিষ্টপূর্ব ৪র্থ থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ১ম শতকের প্রাচীন সেখানে ভগবান বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণ ও ভগবান সঙ্কর্ষন বলরামকে সর্বেশ্বর বলে তাদের পূজাশিলার মন্দিরকে নারায়ণমিতি বলা হয়েছে আর সেখানে প্রাপ্ত আরেকটি খ্রিষ্টাব্দ ৭ম শতকের শিলালিপিতে সেই পূজাশিলাকে বিষ্ণুর পদচিহ্ন বলে উল্লেখ আছে ⁷ । কৌষতকী ব্রাহ্মণেও আঙ্গিরস কৃষ্ণের কথা উল্লেখ আছে,কোন কোন ক্ষত্রিয়ও আঙ্গিরস বলে প্রসিদ্ধ ⁸ । খ্রিষ্টপূর্ব ৩য় শতকের মেগাস্থেনিসের বর্ণনাতেও মথুরায় শ্রীকৃষ্ণের উপাসনার প্রমাণ রয়েছে ⁹ ।পাণিনির সূত্রেও বাসুদেব ও অর্জুনের নাম উল্লেখ রয়েছে ¹⁰ ।বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণকে পরিপূর্ণ জানতে হলে নিশ্চয়ই পড়তে হবে মহাভারত যা খ্রিষ্টপূর্ব ৫ম শতকে রচিত হয়েছে ¹¹ । মহাভারতের বাসুদেব দেবকীনন্দন শ্রীকৃষ্ণ নিয়ে প্রত্যেক পর্বের বহু অধ্যায় ও শ্লোকে উল্লেখযোগ্য বর্ণনা রয়েছে তারপর‌ও আমি কিছু শ্লোক এখানে উল্লেখ করলাম।
"ভীষ্ম বলিলেন - এই কথা বলিয়া জগতের সৃষ্টিকর্তা ভগবান নারায়ণ সে স্থান হ‌ইতে চলিয়া গেলেন।অত‌এব যুধিষ্ঠির তুমি সেই দেবকীনন্দন হৃষীকেশ কৃষ্ণের শরণাগত হ‌ও।মহর্ষিরা এই কৃষ্ণের আরাধনা করিয়া মুক্তি লাভ করিয়াছেন। কারণ ইনি জগতের সৃষ্টিকর্তা ও সংহারকর্তা এবং সমস্ত কারণের কারণ।যাঁহারা একাগ্রচিত্ত হ‌ইয়া সমস্ত সংসার নিবৃত্তির কারণ বিষ্ণুর আরাধনা করেন তাঁহারা অত্যন্ত দুর্লভ সাযুজ্য মুক্তি লাভ করিয়া থাকেন; ইহা সর্বদাই আমার মনে আছে এবং ঋষিরাও বর্ণনা করেন।"(মহাভারত শান্তিপর্ব ২০০/৬৪-৬৭)
"যুধিষ্ঠির বলিলেন - ভরতশ্রেষ্ঠ মহাপ্রাজ্ঞ পিতামহ! পুন্ডরীকাক্ষ,অচ্যুত, জগতের সৃষ্টিকর্তা, সনাতন,বিষ্ণু, সমস্ত ভূতের উৎপত্তি ও লয়ের স্থান, নারায়ণ, হৃষীকেশ, গোবিন্দ ও অপরাজিত কৃষ্ণের তত্ত্ব আমি যথার্থরূপে শুনিতে ইচ্ছা করি।" (মহাভারত শান্তিপর্ব ২০১/১-২)
"যুধিষ্ঠির বলিলেন - কৌরব শ্রেষ্ট! এইভাবে সেই মহাত্মা নারায়ণ‌ই এই কৃষ্ণরূপে আবির্ভূত হ‌ইয়াছেন; সর্ব্বলোকদর্শী দেবর্ষি নারদ‌ও যথাযথভাবে এই কৃষ্ণের পরমব্রহ্মত্ব স্বীকার করিয়াছেন। এইভাবে এই মহাবাহু, পুন্ডরীকাক্ষ ও সত্যবিক্রম কৃষ্ণ কেবল মানুষ নহেন; ইনি সেই অচিন্ত্যনীয় নারায়ণ।" (মহাভারত শান্তিপর্ব ২০১/৪৭-৪৯)।
এইবার আসি শ্রীকৃষ্ণের উপাসনার প্রাচীনতা নিয়ে। বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণের উপাসনার সবচেয়ে প্রাচীন প্রমাণ আমরা পাই সোয়াট উপত্যকায় যেখানে খ্রিষ্টপূর্ব ১০০০ বছর প্রাচীন চক্রধারী বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণের চিত্র পাওয়া যায় ¹² । রাজস্থানে খ্রিষ্টপূর্ব ৪র্থ শতকে রাজা সর্বতাত কর্তৃক শ্রীকৃষ্ণ ও বলরামের উদ্দেশ্যে মন্দির নির্মাণ করা হয় এবং Hathi Bada Ghosundi inscription নামক ব্রাহ্মীসংস্কৃত লিপি সেখানে পাওয়া যায় যেখানে বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণ ও সঙ্কর্ষন বলরামকে সর্বেশ্বর ভগবান বলা হয়েছে ও তাঁদের চরণচিহ্ন যুক্ত শিলার উপাসনা করা হত, উক্ত শিলায় রাজা নিজেকে ভাগবত বা বৈষ্ণব বলেও অভিহিত করেছেন ¹³ ।খ্রিঃপূর্ব ৩য় শতকে গ্রিকরাষ্টদূত Heliodorus এর নির্মিত গরুড়স্তম্ভের শিলালিপিতেও হিলিওডোরাস বাসুদেবকে দেবদেবস(দেবতাদের দেবতা, বিষ্ণুঃ সর্বা দেবতাঃ ঐ:ব্রা:১.১.৪)বলেছেন ও নিজেকে ভাগবত বলে উল্লেখ্য করেছেন ¹⁴ ।ভুপালেও বিদিশাতে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে খ্রিষ্টপূর্ব ৩য় শতকের বাসুদেব, সঙ্কর্ষন, অনিরুদ্ধ ও সাত্যকির মন্দির উদ্ধার করা হয় ¹⁵ ।তাই পরিশেষে বলা যায় চতুর্ব্যূহৎ ও বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণের উপাসনা মোটেও নতুন নয় বরং বহু প্রাচীন কাল থেকেই প্রচলিত ও শাস্ত্রীয়।

★শ্রীকৃষ্ণের অবতার হ‌ওয়ার কারন ও সেই সম্বন্ধে বিভিন্ন শাস্ত্রীয় প্রমাণ
কোন কোন ইতিহাসবিদ অনেক সময়ই বলেন যে প্রাচীন কালে রাজাদের ঈশ্বর রূপে উপাসনা করা হত যেমন মিশরে ও রোমে করা হত ¹⁶ তেমনি হয়তো শ্রীকৃষ্ণকে ঈশ্বর বলে উপাসনা করা শুরু হয়। কিন্তু ভারতে তো ব্রাহ্মণ বংশে জন্ম পরশুরাম,ব্যাসদেব, বামন,দত্তাত্রেয়কেও বিষ্ণুর অবতার রূপে উপাসনা করতে দেখা যায়।মিশর বা রোমে কিন্তু তেমনটা হয়নি তাহলে কিভাবে বলব যে শ্রীকৃষ্ণ শুধু রাজা বলে তাঁকে ঈশ্বররূপে উপাসনা করা হয় !!? আমার মতে তেমনটা হ‌ওয়ার সম্ভাবনা শূন্য কেননা শ্রীকৃষ্ণ বৃষ্ণিবংশের শ্রেষ্ঠ ছিলেন কিন্তু রাজসিংহাসনে কখনো আরোহণ করেননি বরং কংসকে বধের পর রাজাসিংহাসনে কংসের‌ই পিতা যিনি কংসের দ্বারা‌ই বন্দি ছিলেন সেই উগ্রসেন মথুরায় পরবর্তীতে দ্বারকাতে এবং দ্বারকায় উগ্রসেন ও পরবর্তীতে শ্রীকৃষ্ণের বড় ভ্রাতা বলরাম রাজসিংহাসনে ছিলেন যদিও দ্বারকা নির্মিত হয়েছিলো শ্রীকৃষ্ণের নির্দেশে ও যাদবদের প্রধান হ‌ওয়া সত্ত্বেও তিনি রাজসিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন নাই (সমগ্র দ্বারকাবাসীরাও বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণকেই তাদের প্রভু,পিতা,আরাধ্য মানতেন - শ্রীমদ্ভাগবতম ১.১১.৭)। এমনকি মহাভারতের যুদ্ধের পর‌ও যুধিষ্ঠির‌ই সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের চক্রবর্তী সম্রাট হন, শ্রীকৃষ্ণ নন যদিও মহাভারতের যুদ্ধে পান্ডবদের জয়ের সবচেয়ে বড় কারণ শ্রীকৃষ্ণ ভিন্ন কেউই নন। যেখানে যুধিষ্ঠির যদি চক্রবর্তী সম্রাট হয়েও ঈশ্বররূপে পূজিত না হন (যদিও পঞ্চপাণ্ডব কিন্তু পরমেশ্বর ভগবান শিবের অংশাবতার ছিলেন ও দ্রৌপদী স্বাক্ষাৎ উমা) সেখানে শ্রীকৃষ্ণ এত গুরুত্বপূর্ণ শুধু ক্ষত্রিয় বলে তা হতে পারে না। শ্রীকৃষ্ণকে পরমব্রহ্ম রূপে উপাসনার কারণ দুটো হতে পারে;
এক, শ্রীকৃষ্ণ ব্রহ্মজ্ঞানী তথা ব্রহ্মবিদ হ‌ওয়ার কারনে।অর্থববেদীয় মুন্ডক উপনিষদের ৩/২/৯ রয়েছে " স যো হ বৈ তৎ পরমং ব্রহ্ম বেদ ব্রহ্মৈব ভবতি " যিনি পরম ব্রহ্মকে জানেন তিনি ব্রহ্ম হয়ে যান।শুক্লযজুর্বেদীয় বৃহদারণ্যক উপনিষদের ১/৪/৫ এ উল্লেখ রয়েছে যে তিনি অবগত হইলেন,“আমিই সৃষ্টিরূপে বিদ্যমান; কারণ আমিই এই সমস্ত সৃজন করিয়াছি”। সেই জন্যই তাঁহার নাম হইল সৃষ্টি।যিনি এই সৃষ্টিকে জানেন তিনিও স্রষ্টা।এই ধরনের উল্লেখ কৃষ্ণযজুর্বেদীয় নারায়ণ উপনিষদেও রয়েছে "নারায়ণ এবেদগং সর্বম্। যদ্ভূতং যচ্চ ভব্যম্। নিষ্কলো নিরঞ্জনো নির্বিকল্পো নিরাখ্যাত শুদ্ধো দেব একো নারায়ণঃ। ন দ্বিতীয়ো হস্তি কশ্চিৎ। য এবং বেদ। স বিষ্ণুরেব ভবতি স বিষ্ণুরেব ভবতি॥৩॥" অর্থাৎ নারায়ণ‌ই সমস্ত।যাহা হচ্ছে ও হবে সব‌ই নারায়ণ। নারায়ণ নিষ্কলি, নিরঞ্জন,নির্বিকল্প ও নিরাখ্যাত শুদ্ধ এক দেবস্বরূপ। নারায়ণ ভিন্ন দ্বিতীয় সত্ত্বা নেই। যিনি এইরূপ শ্রীবিষ্ণুকে জানেন তিনি স্বাক্ষাৎ বিষ্ণুই। অর্থাৎ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ থেকে ভালো সৃষ্টিকে, ব্রহ্মকে, বিষ্ণুকে কেউ জানে না তা শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ও উদ্ভব গীতা পড়লেই বোঝা যায়। নারায়ণ উপনিষদের "ন দ্বিতীয় হস্তি কশ্চিৎ" অর্থাৎ নারায়ণ‌ই সব, নারায়ণ ভিন্ন কেউ নেই এক‌ই কথা ভগবান শ্রীকৃষ্ণ‌ও বাসুদেবঃ সর্বমিতি,বাসুদেব‌ই (বিষ্ণু /নারায়ণ) সমস্ত (শ্রীমদ্ভগবদগীতা ৭/১৯)।এই কারনে নারায়ণ উপনিষদে দেবকীপুত্র কৃষ্ণকে‌ও পরমব্রহ্ম বিষ্ণুই বলা হয়েছে "ব্রহ্মণ্যো দেবকীপুত্রো"। এছাড়াও ভগবান শ্রীকৃষ্ণ‌ও অর্জুনকে বলেছেন "বেদৈশ্চ সর্বৈরহমেব বেদ্যো বেদান্তকৃদ্ বেদবিদেব চাহম্"-আমিই বেদসমূহের একমাত্র জ্ঞাতব্য, আমিই আচার্যরূপে বেদান্তের অর্থ প্রকাশক এবং আমিই বুদ্ধিতে অধিষ্ঠিত থাকিয়া বেদার্থ পরিজ্ঞাত হ‌ই (ভগবদ্গীতার ১৫/১৫)। অর্থাৎ ব্রহ্মবিদ শ্রীকৃষ্ণ‌ই স্রষ্টা বিষ্ণু।
দুই, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মধ্যে পরমেশ্বর ভগবানের সমস্ত গুণাবলী পূর্ণরূপে থাকার কারণে‌ বিষ্ণুর পূর্ণাবতার রূপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিকট পূজিত হয়ে আসছেন।গর্গসংহিতায় রয়েছে "পূর্ণস্য লক্ষণং (গোলকখন্ড/২৪)", "পরিপূর্ণতমঃ সাক্ষাচ্ছ্রীকৃষ্ণো নান্য এব হি (গোলকখন্ড/২৫)" অনুবাদ: এই অবতারে (কৃষ্ণে) পূর্ণের লক্ষণ বিদ্যমান ; শ্রীকৃষ্ণ‌ই এই পরিপূর্ণাবতার অন্য কেহ নহেন। ব্রহ্মসূত্রের ভাষ্য স্বরূপ শ্রীমদ্ভাগবতম মহাপুরানের দশম স্কন্দের অষ্টম অধ্যায় ১৩ ও ১৫ নং শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণের নামকরণের সময় গর্গাচার্য্য‌ও শ্রীকৃষ্ণের অবতারত্ব তাঁর গুণ ও লক্ষণ অনুযায়ী বলেছেন। অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণের মধ্যে পরমেশ্বর ভগবানের বিভিন্ন লক্ষণ ও গুণের সাথে সাদৃশ্য থাকার কারণেই বেদব্যাস,দেবর্ষি নারদ আদি অন্যান্য ঋষি, ভীষ্ম আদি অন্যান্য মহাজন ও যুধিষ্ঠির, অর্জুন আদি পান্ডব গন শ্রীকৃষ্ণকে স্বাক্ষাৎ পরমেশ্বর ভগবানরূপে স্তুতি পূজা বন্দনা করতেন(মহাভারত অনুশাসনপর্ব ১২৫/৩৭,১১৭/৪৬,শান্তিপর্ব ২০৪/৭৭-৭৮, ২০০/৬৪-৬৭, ২০১/৩,৪৭-৪৯)। শ্রীকৃষ্ণের ভগবদস্বরূপ "বস্তু সচ্চিদানন্দমদ্বয়ং ব্রহ্ম (বেদান্তসারঃ ৩৩)" বোধ করায় ব্রহ্মাও বন্দনা করছেন,
ঈশ্বরঃ পরমঃ কৃষ্ণঃ সচ্চিদানন্দবিগ্রহঃ।
অনাদিরাদি র্গোবিন্দঃ সর্বকারণ কারণম্।। ব্রহ্মসংহিতা ৫/১
তাই পরিশেষে বলা যায় যে শ্রীকৃষ্ণ শুধু ক্ষত্রিয় বা রাজা বলেই মিশর রোম সংস্কৃতির দেখাদেখি ভাগবদধর্মাবলম্বীগন শ্রীকৃষ্ণকে ঈশ্বর রূপে উপাসনা করছে তা নয়। বরং শ্রীকৃষ্ণ ব্রহ্ম-বিষ্ণু ও জগৎ-সৃষ্টিকে পরিপূর্ণ ভাবে জানা এবং ভগবানের পূর্ণ লক্ষণ শ্রীকৃষ্ণের মধ্যে থাকার কারণেই আমরা তাঁকে ঈশ্বররূপে উপাসনা করি।
এইবার আসি আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যে শ্রীকৃষ্ণ যদি ঈশ্বর হন তাহলে তিনি জন্মগ্রহণ করেন কিভাবে ?? বেদে তো ঈশ্বরকে জন্মরহিত বলা হয়েছে তাহলে ঈশ্বরের অবতার কি বেদ বিরোধী নয় !! ঈশ্বর যদি এই জড়জগতে জন্মগ্রহণ করেন তাহলে তো তিনি তাঁর‌ই সৃষ্ট জগতে দুঃখকষ্টে বদ্ধ হবেন,কর্ম করে কর্মফল ভোগী হয়ে যান তা কি করে সম্ভব !??
প্রথমেই বলে রাখি ঈশ্বরের অবতার বেদ বিরোধী নয়।শুক্লযজুর্বেদ ৩১ অধ্যায় ১৯ নং মন্ত্রে রয়েছে "অজায়মানো বহুধা বি জায়তে"যিনি জন্মরহিত হয়েও মায়ার প্রপণ্যে বহুরূপে অবতীর্ণ হন(জন্মগ্রহণ করেন)। কৃষ্ণযজুর্বেদীয় শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ ৪/৩ শ্রুতিতে উল্লেখ রয়েছে "ত্বং জাতো ভবসি বিশ্বতোমুখঃ" অর্থ্যাৎ হে পরমেশ্বর ভগবান তুমিই জাত হইয়া নানারূপ ধারণ করো। অর্থাৎ ঈশ্বরের অবতার মোটেও অবৈদিক নয়। এইবার আসি ঈশ্বরের অবতার আর সামান্য জীবের জন্মের মধ্যে কি পার্থক্য রয়েছে।
শাস্ত্রে রয়েছে,
"ঋক,যজু ও সামবেদ উচ্চারণকালে আবার ধারণ করিয়া জিহ্বাগ্রে থাকে, সুতরাং মানুষের চেষ্টায় সেগুলোর উৎপত্তি হয় এবং উচ্চারণের পরে বিনাশ‌ও হ‌ইয়া থাকে। কিন্তু সেই পরমব্রহ্ম শরীর ধারণ করিয়া আবির্ভূত হ‌ইলেও কাহার‌ও চেষ্টায় হয় না। সুতরাং পরমব্রহ্মের আদি নাই,অন্ত নাই,মধ্য‌ও নাই।" (মহাভারত,শান্তিপর্ব - নবনবত্যধিকশততমোঽধ্যায়/ ১৬-১৭)
শ্রীকৃষ্ণকে উদ্ভব বলিয়াছেন -" তুমি ব্রহ্ম,পরমব্যোম, প্রকৃতির অতীত ভগবান। নিজের ইচ্ছানুসারে পৃথক বপু সকলকে আত্মসাৎ করিয়া অবতীর্ণ হ‌ইয়াছ।" (শ্রীমদ্ভাভাগবতম ১১/১১/২৮)
শ্রীভগবান অর্জুনকে বলেছেন - "দেখ,হে পার্থ,যদিও এই তিন লোকে আমার কোন কর্তব্য নেই বা কোন পাবার বা না পাবার কিছুই নেই,তথাপি আমি (লোকের কল্যাণের জন্য) কর্মে ব্যাপৃত আছি।" (শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ৩/২২)
শ্রীভগবান অর্জুনকে বলেছেন - "হে পরন্তপ অর্জুন আমার ও তোমার অনেক জন্ম অতীত হয়েছে,সে সকল জন্মবৃত্তান্ত আমার সব মনে আছে,তুমি ভুলে গেছ। আমি জন্মহীন,অব্যয় আত্মা,ভূতগণের শাসক,স্রষ্টা নিয়ামক হয়েও নিজ (স্বাভাবিক) অনির্বচনীয় মায়াশক্তিকে আশ্রয় করে আত্মমায়ায় জন্মগ্রহণ করি।" (শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ৪/৫-৬)
মহাভারত, শ্রীমদ্ভাগবতম মহাপুরান এবং শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার উক্তি থেকে বোঝা যায় যে শ্রীভগবানের অবতার আর একটা সামান্য জীবের মধ্যে পার্থক্য এই যে জীব যা করে তা চেষ্টায় করে,কোন কিছু পাবার আশায় করে এবং কোন কর্মের পর কর্মফল ভোগ করে কিন্তু ভগবান কোন কিছু করবার জন্য কারোর চেষ্টার প্রয়োজন নেই। তিনি নিজের ইচ্ছায় আত্মমায়ায় জন্মগ্রহণ করেন কিন্তু কোন মায়ায় আবদ্ধ হন না। তিনি তাঁর অনন্ত জন্ম বা অবতার যা লোক কল্যাণে ধারণ করেছেন অনন্ত ব্রহ্মান্ডে তা সর্বদা মনে রাখতে পারেন কিন্তু একটা জীব তার পূর্ব জন্মের স্মৃতিই মনে রাখতে পারেন না ( কিছু ক্ষেত্রে এমন অনেক আছেন যারা বড় জোর পূর্বের একটি জন্মের কথা মনে রাখতে পারেন আশা করি পাঠক আত্মাস্তিত্ববাদী হবে ¹⁷ ) ।সেই ঈশ্বরচৈতন্য দ্রষ্টা এই জড় জগতে অবতীর্ণ হলেও কোন প্রকার বন্ধনে আবদ্ধ হন না । তাঁর জন্মমৃত্যু আদি লীলা একটি অভিনয়ের মতো। এই জন্যই শ্রীমদ্ভাগবতমে বলা হয়েছে যে,
শ্রীশুকদেব বলেছেন - “হে পরিক্ষিত! অভিনেতা বহু চরিত্রের অভিনয়কালে চরিত্র অভিনয়‌ই করে থাকে ও নিজ সত্তা কখনো বিসর্জন দেয় না। ঠিক সেই ভাবেই ভগবানের মানবদেহ ধারণ, লীলা ও শেষে তাঁর সংবরণ তাঁর লীলার বিলাস মাত্র। তিনিই জগৎ সৃষ্টি করেন, তাতে তিনিই প্রবেশ করেন ও তাতে বিহার করেন এবং পরিশেষে সংহার করে নিজ অনন্ত মহিমাযুক্ত স্বরূপে বিলীন হয়ে যান৷” (শ্রীমদ্ভাগবত মহাপুরাণ ১১৷৩১৷১১)

★ শ্রীকৃষ্ণের জীবনী নিয়ে প্রচারিত বিভিন্ন মিথ্যাচারের খন্ডন
শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে বিভ্রান্ত হ‌ওয়া খুব‌ই স্বাভাবিক।খোদ ভাগবতেই বলা হয়েছে,
ভীষ্ম বলিলেন - "হে রাজন, পরমেশ্বর (শ্রীকৃষ্ণ) পরিকল্পনা কেউই জানতে পারে না। এমনকি, মহান দার্শনিকেরাও বিশদ অনুসন্ধিৎসা সহকারে নিয়োজিত থেকেও কেবলি বিভ্রান্ত হন।" (শ্রীমদ্ভাভাগবতম ১/৯/১৬)
উদ্ভব বলেছেন - "হে প্রভু! আপনি যে নিষ্ক্রিয় হ‌ওয়া সত্ত্বেও কার্য করেন, জন্মরহিত হয়েও জন্ম স্বীকার করেন, কালের নিয়ন্তা হ‌ওয়া সত্ত্বেও শত্রুভয়ে পলায়ন করেন ও দূর্গে আশ্রয় গ্রহণ করেন এবং আত্মরাম হয়েও বহু স্ত্রী পরিবৃত হয়ে গৃহস্থ আশ্রম স্বীকার করেন এই সমস্ত বিষয়ের সমাধান করতে গিয়ে বিদ্বান ঋষিদের‌ও বুদ্ধি সংশয়ের দ্বারা খিন্ন হয়।" (শ্রীমদ্ভাভাগবতম ৩/৪/১৬)
এর জন্যই ভগবানকে ও লীলার প্রত্যেকটি পরিপূর্ণ ভাবে বুঝতে পারাটা যেখানে ঋষিদের‌ও বুদ্ধির অতীত সেখানে আমরা তো ধারের কাছেও নেই। কিন্তু যাদের শ্রীভগবানে অচলা ভক্তি রয়েছে তারাই বাসুদেবের পূর্ণ মহিমা, শক্তি এবং দিব্য ভাব সম্বন্ধে পারেন (শ্রীমদ্ভাভাগবতম ১.৩.৩৮)।আসলে সমস্যা হচ্ছে না জানাটা নয় বরং একটা সম্প্রদায়ের লোক জেনে বুঝে বা অজ্ঞতাবশত ভগবানের বিভিন্ন ঘটনাকে নিয়ে ভুল ভাবে ব্যাখা, অর্ধসত্য অথবা মিথ্যাচার করেই যাচ্ছে। যদিও সেই মতাবলম্বীদের বিভিন্ন আপত্তি বহু ভাগবদগন বা সনাতনী সাধারণ ঐসব অপপ্রচারের বহু ভাবে খন্ডন করেছে তাও তাদের এক‌ই কুযুক্তি আর মিথ্যাচার ভগবানের উপর আরোপ করে থাকে। তাই এখানে সেই সমস্ত আরোপের মধ্যে কিছু মিথ্যাচার উল্লেখ করে খন্ডনের চেষ্টা করব।
সবচেয়ে আলোচিত ও সমাজে ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে একটা কুযুক্তি বেশ বহুল প্রচারিত তা হলো শ্রীকৃষ্ণ ও গোপীদের প্রেম নিয়ে। “ কৃষ্ণ করলে লীলা আমি করলে বিলা “ এইধরনের কথা হরহামেশা শুনা যায়। শ্রীকৃষ্ণের প্রতি যে গোপীদের শুদ্ধপ্রেম সেটা কিন্তু কোন জনসাধারণের দৈহিক আকর্ষণযুক্ত কাম নয় তার কারণ শ্রীমদ্ভাভাগবতমেই এইভাবে রয়েছে,
আর্ত্তির সহিত ব্রজ সুন্দরীগন শ্রীকৃষ্ণকে লক্ষ্য করিয়া বলিয়াছেন - “হে সখে! তুমি গোপী-যশোদার পুত্র নহে। তুমি সর্ব্বজীবের অন্তর্যামী; ব্রহ্মার প্রার্থনাতেই, বিশ্বের পালনের নিমিত্ত সাত্বতকুলে (যদুকুলে) অবতীর্ণ হ‌ইয়াছ।” (শ্রীমদ্ভাভাগবতম ১০/৩১/৪)
গোপকিশোরীগন শ্রীকৃষ্ণকে বলিলেন - “ হে অঙ্গ! শ্রীকৃষ্ণ! তুমি পরমধর্মজ্ঞ ; সেই জন্য‌ই ‘ পতি,পুত্র ও সুহৃদগনের যথাযোগ্য সেবাই স্ত্রীগনের স্বধর্ম ’ - বলিয়া তুমি আমাদিগকে ধর্মোপদেশ প্রদান করিতেছ। কিন্তু আমরা মনে করি, তোমার উপদেশের তুমিই একমাত্র যোগ্য ( অর্থাৎ তোমার সেবা করলেই আমাদের পক্ষে তোমার উপদেশ পালন করা হ‌ইবে ) ; কেননা,তুমি ঈশ্বর এবং সর্ব্বজীবের প্রিয়তম, বন্ধু এবং আত্মা। ” (শ্রীমদ্ভাভাগবতম ১০/২৯/৩২)
“হে অঙ্গ! তোমার সাহায্য দৃষ্টি এবং মধুর মুরলীরবে আমাদের হৃদয়ে (প্রাণবল্লভরূপে তোমার সেবার জন্য উৎকণ্ঠাময়ী বাসনারূপ যে) অগ্নি প্রজ্বলিত হ‌ইয়াছে, তোমার অধরামৃত প্রবাহের দ্বারা তাহা নির্ব্বাপিত কর। হে সখে! যদি তুমি তাহা না করে ,তাহা হ‌ইলে আমরা তোমার বিরহাগ্নিতে দগ্ধ হ‌ইয়া তোমার ধ্যান করিতে করিতে তোমার চরণ সান্নিধ্যে গিয়া উপনীত হ‌ইব।” (শ্রীমদ্ভাভাগবতম ১০/২৯/৩৬)
ভাগবতের উক্ত তিনিটি শ্লোকে সুস্পষ্ট ভাবে বর্ণিত হয়েছে গোপীগন শ্রীকৃষ্ণের পরমেশ্বরত্ব খুব ভালো ভাবে অবগত ছিলেন,আর শ্রীকৃষ্ণ কিন্তু কাউকে জোরপূর্বক তাঁর প্রতি প্রেমের জন্য বাধ্য‌ও করেননি বরং গোপীদের কৃষ্ণবিরহ তাঁদের স্বভাব ছিল। বৃহদারণ্যক উপনিষদে রয়েছে “আত্মানঃ কামায় সর্বং প্রিয়ং ভবতি” আত্মার প্রতি কামের জন্য‌ই সমস্ত কিছু প্রিয় হয়ে ওঠে এই আত্মার প্রতি কাম প্রেম দেহের প্রতি নয়।আর গোপী শ্রীকৃষ্ণের প্রতি যে তাও কোন জাগতিক দৈহিক সম্পর্ক নয় বরং চিন্ময়, আত্মস্বরূপ শ্রীকৃষ্ণের প্রতি আকর্ষণ। গোপীদের এই প্রেম সম্বন্ধে নারদ বলেছেন “ আমার মতে নিজের সকল কর্ম ভগবানে অর্পন করা এবং অল্প সময়ের জন্য‌ও ভগবানের বিস্মরণ হলে অতীব ব্যাকুল হ‌ওয়াকেই ভক্তি বলে।…..যেমন ব্রজগোপীদের ভক্তি।(নারদ ভক্তিসূত্র ১৯ ও ২১)”।তাই শ্রীকৃষ্ণ ও গোপীদের প্রেমকে নিজের কামুক দৃষ্টিতে দেখা ন্যায় সঙ্গত নয়।
শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে আরেকটা অপপ্রচার গোপীদের বস্ত্রহরণ নিয়ে।এর আগেই আমরা জেনেছি যে ব্রজগোপীদের শ্রীকৃষ্ণের প্রতি অচলা ভক্তি ছিল। শ্রীমদ্ভাগবতমের দশম স্কন্দের ২২ অধ্যায়ে (বস্ত্রহরণ) উল্লেখ আছে গোপীগন শ্রীকৃষ্ণকে পতি হিসেবে পাওয়া জন্য অগ্রহায়ণ মাসে প্রাতঃকালে শ্রীকৃষ্ণের গুণ কীর্তন করে স্নান পূর্ব দেবী কাত্যায়নীকে বিভিন্ন উপাচার দ্বারা আরাধনা করে এইরূপ মন্ত্র উচ্চারণ করতেন যে “হে কাত্যায়নী! হে মহামায়া! হে মহাযোগিনী! হে অধীশ্বরী! হে দেবী! নন্দগোপের পুত্রকে (শ্রীকৃষ্ণকে) আমার পতি করে দিন। আপনাকে নমস্কার।” এইভাবে একমাস ব্রত পালন করে ব্রজগোপীরা। ব্রত সমাপনের দিন ঊষাকালে গোপীগন বস্ত্র খুলে নদীর মধ্যে স্নান করতেছিলেন। শ্রীকৃষ্ণ তো জানতেন যে গোপীরা কি কারনে এই ব্রত করছে। কিন্তু গোপীরা এই বিষয়ে জানতে না যে ব্রতের সময় নদীতে বস্ত্রহীন স্নান করলে ব্রতভঙ্গ হয় বা কোন মেলে না।তো শ্রীকৃষ্ণ তাদের ত্রুটি ধরিয়ে দেওয়ার জন্য নদীর তীরে রাখা তাদের বস্ত্র তুলে নদীর তীরে অবস্থিত একটি কদম্ববৃক্ষে ওঠে লুকিয়ে গেলেন এবং স্নানরত গোপীদের বললেন যে তিনি তাদের বস্ত্র তুলে নিয়েছেন। তখন গোপীগন বললেন “ হে শ্যামসুন্দর! আমরা তোমার দাসী,তুমি আমাদের যা করতে করতে বলবে আমরা তাই করব। ধর্মের তত্ত্ব তোমার চেয়ে ভালো কে বুঝে?? সুতরাং হে ধর্মজ্ঞ! তুমি আমাদের বস্ত্র ফিরিয়ে দেও।” তারপর শ্রীকৃষ্ণ গোপীদের বললেন,
“প্রিয় গোপিকাগন তোমরা যে ব্রত গ্রহণ করেছিলে তা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে উদযাপন করেছ এতে সন্দেহ নেই।তবে দেখ অজ্ঞাতই একটা ত্রুটি তোমাদের ঘটে গেছে। ব্রতপালনকালে জলে বিবস্ত্রা হয়ে স্নান করা অনুচিত,এতে দেবতার প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হয়, তাঁর কাছে অপরাধ হয়।তাই সেই দোষ মোচনের জন্য তোমরা জোরহাত মাথা ঠেকিয়ে মাথা নিচু করে তাঁর উদ্দেশ্যে প্রণাম করে এবং তারপর তোমাদের কাপড় নিয়ে যাও।” (শ্রীমদ্ভাভাগবতম ১০/২২/১৯)
ব্রজ সুন্দরীগন শ্রীকৃষ্ণের কথা অনুসারে প্রায়শ্চিত্ত করে স্নান শেষে তাদের ব্রতের প্রায়শ্চিত্ত করে এবং ব্রতের ফলরূপ শ্রীকৃষ্ণের সাথে শারদপূর্ণিমার রাসে বিহার করেন। মনে রাখবেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ লীলা পুরুষোত্তম ঠিকই কিন্তু নিজ লীলা প্রকটনকালে কোন মর্যাদা উল্লঙ্ঘন করেন না বরং স্থাপনাই করেন। গোপীগন শ্রীকৃষ্ণকে পাওয়ার জন্য ব্রতে যে অজ্ঞানকৃত ত্রুটি ছিল তা ধরিয়ে দিয়ে প্রায়শ্চিত্ত করিয়ে শাস্ত্রের গুরুত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এমনকি গীতায় শ্রীভগবানের উক্তি অনুযায়ী ভক্তি শাস্ত্র অনুযায়ী হ‌ওয়া উচিত। শ্রীকৃষ্ণের প্রতি গোপীদের বৈধিভক্তি,রাগানুগাভক্তি থাকলেও শুধু প্রয়োজন ছিল পূর্ণ সমর্পণ তাও এই বস্ত্রহরণ লীলার মাধ্যমে সংঘটিত হয়ে তারা তাদের মনস্কামনা পূর্ণ করতে পেরেছিলেন তথা শ্রীকৃষ্ণকে পেয়েছিলেন। তাই বস্ত্রহরণ লীলার মাধ্যমে যে অপপ্রচার তা শুধু অর্ধসত্য এবং এর দ্বারা শ্রীকৃষ্ণের চরিত্রে কালিমা লেপন‌ও ন্যায় সঙ্গত নয়।
শ্রীকৃষ্ণের ষোড়শ সহস্র ক্ষত্রিয় কন্যার বিবাহ নিয়েও কুৎসা রটানো হয়। কিন্তু শ্রীমদ্ভাগবতমে কি উল্লেখ রয়েছে,
“প্রাসাদে প্রবেশ করে শ্রীভগবান সেই ষোড়শ সহস্র ক্ষত্রিয় রাজকন্যাদের দেখতে পেলেন যাদের ভৌমাসুর বলপূর্বক হরণ করে কাছে রেখেছিল। রাজকুমারীগন নরশ্রেষ্ঠ ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে অন্ত্যপুরে প্রবেশ করতে দেখে আনন্দিত ও মোহিত হলেন। তাঁর আগমনকে তাঁর অহেতুক কৃপা ও নিজেদের পরমসৌভাগ্য জ্ঞান করে মনে মনে তারা শ্রীভগবানকে পরম প্রিয়তম পতিরূপে বরণ করে নিলেন। সেই রাজকুমারীদের প্রত্যেকের মনে পৃথক পৃথক ভাবে এই এক‌ই চিন্তা এল - এই শ্রীকৃষ্ণ‌ই আমার পতি। বিধাতা যেন আমার এই অভিলাষ পূর্ণ করেন। এইভাবে তারা অনুরোধ প্রেরিত হয়ে নিজেদের শ্রীভগবানের পাদপদ্মে সমর্পণ করলেন।” (শ্রীমদ্ভাভাগবতম ১০/৫৯/৩৩-৩৫)
অর্থাৎ নরকাসুর দ্বারা জোরপূর্বক বিভিন্ন ক্ষত্রিয় রাজাদের থেকে তাদের রাজকন্যাদের অপহরণ করা হয়েছিল। যখন শ্রীকৃষ্ণ ও সত্যভামা দেবতা ইন্দ্রের অনুরোধে নরকাসুরকে বধের নিমিত্ত নরকাসুর বা ভৌমাসুরের প্রাসাদে প্রবেশ করে তখন সেখানে অপহৃত রাজকন্যা শ্রীকৃষ্ণকে দেখতে পেরে মোহিত হয়ে যান এবং তাঁকে তাদের পতি হিসেবে গ্রহণ করে আত্মসমর্পণ করে। এমনকি বিধাতার কাছে (শ্রীকৃষ্ণের কাছেই) তাঁকে তাদের স্বামী হিসেবে পাওয়ার প্রার্থনা‌ও করতেছিল। শ্রীকৃষ্ণ কোন রাজকন্যাকে জোরপূর্বক গ্রহণ করেন নাই। (বিস্তারিত - https://sanatan22sss.blogspot.com/2024/03/blog-post.html)
শ্রীকৃষ্ণের সংবরণ লীলার মাধ্যমে‌ও শ্রীকৃষ্ণের পরমেশ্বরত্বের উপর সংশয় প্রকাশ করে থাকেন। কিন্তু শ্রীভগবানের দেহ সংরক্ষণ না করে ব্যাধের বাণের মাধ্যমে লীলা সংবরণের পিছনেও তাঁর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ রয়েছে। সংবরণ লীলা‌ সম্বন্ধে ভাগবতমে এইরূপ উল্লেখ আছে,
শ্রীশুকদেব বলিলেন - “শ্রীভগবানের বিগ্রহ উপাসকগণের ধ্যান ধারণার মঙ্গলময় আধার ও সমস্ত লোকের পরম আরাধ্য আশ্রয়। তাই তিনি (যোগবৎ) অগ্নি সম্বন্ধিত যোগ ক্রিয়া দ্বারা তার দহন করলেন না। তিনি স্বশরীরে নিজ নামে গমন করলেন।সান্দীপনি গুরুর পুত্র যমালয়ে গমণ করবার পরেও তিনি তাকে সশরীরে হাজির করেছিলেন। তোমার (পরীক্ষিৎ) ব্রহ্মাস্ত্রের আঘাতে দগ্ধ হয়েছিল কিন্তু তিনি তোমায়ী জীবিত করে দিয়েছিলেন।এই হল তাঁর শরণাগত বাৎসল্য। তিনি কালের‌ও কাল মহাকাল ভগবান শংকরকে যুদ্ধে পরাজিত করেছিলেন। তিনি পরম অপরাধী ব্যাধকেও (তাঁর শরীরে আঘাত করেছিল) সশরীরে স্বর্গে পাঠিয়েছিলেন। হে পরীক্ষিৎ! নিজেই বিচার করে দেখো যে তিনি কী তাহলে নিজ দেহকে চিরকালের জন্য সংরক্ষণ করতে সমর্থ ছিলেন না ! অবশ্যই তিনি সক্ষম ছিলেন। যদিও ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সম্পূর্ণ জগতের সৃষ্টি,স্থিথি ও সংহারের একমাত্র কারণ ও পরম শক্তিসম্পন্ন তবুও তিনি তাঁর শ্রীবিগ্রহকে এই জগতে সংরক্ষণ ইচ্ছা করেননি। এর দ্বারা তিনি স্পষ্টরূপে ঘোষনা করেছেন যে তাঁর মানব শরীরের প্রয়োজনীয়তা তাঁর কাছে চিরকালের নয়। আত্মনিষ্ঠ ব্যক্তিদের জন্য তাঁর সুস্পষ্ট আদেশ যে, তারা যেন শরীরকে স্থায়ীভাবে ধরে রাখার জন্য সচেষ্ট না হন।”- (শ্রীমদ্ভাভাগবতম ১০/৩১/৬,১২-১৩)
যাই হোক আমি আমার এই প্রবন্ধ এই বলে শেষ করতে চাই যে যাই বলুক আমাদের উচিত আমাদের আরাধ্যের উপর কয়েক জনের প্ররোচনায় সংশয় না করা। কেউ যদি শ্রীভগবানকে মিথ্যাচার করে তাহলে প্রয়োজনে কোন অভিজ্ঞ আচার্যের নিকটে প্রশ্ন করবেন অথবা নিজেই বিভিন্ন শাস্ত্র বা বিভিন্ন গবেষণা পত্র সংগ্রহ করে পড়বেন। কিন্তু অযথা নিজে বিভ্রান্ত হয়ে অন্যকে বিভ্রান্ত করবেন না এই আশা করি। সবাইকে জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে এই প্রবন্ধ আমি আমার আরাধ্য দেবকীনন্দন বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণের চরণে সমর্পণ করলাম।
।।শ্রীকৃষ্ণার্পণমস্তু।।


শ্রীঅপূর্ব মোদক চৌধুরী
গবেষক, সনাতন শাস্ত্র গবেষণা কমিটি
।ॐ।সত্যের সন্ধানে সনাতন।ॐ।


তথ্য সংগ্রহ:
দ্রষ্টব্য:
1) Expedition Unknown Wiki : India's Atlantis
2) The Horse and The Aryan Debate,Michael Danino পৃষ্ঠা ৮ এবং Marine Archeology in India পৃষ্ঠা ১৬৭
3) Iconography of protohistoric Swāt and the agricultural intensification period of IV - Massimo Vidale,Roberto Micheli and Luca Oliveri এবং Early India through multiple lenses - প্রাচীন ভারতে অশ্বের অস্তিত্ব সন্ধান - পল্লব বৈরাগী
4) Secrets of Sinauli
5) Wikipedia : Chandogya Upanishad
6) Political History of Ancient India,5th edition পৃষ্টা ১৪১-১৪২ ও Marine Archeology in India-S.R Rao
7) EPIGRAPHIA INDICA, Volume XXII এ Archeologist D. R. Bhandarkar, পৃষ্ঠা:২০২,২০৪ এবং Indian Epigraphy - Richard Salomon - পৃষ্টা ২৩৯-২৪০
😎 ভারতীয় দর্শনের ইতিহাস-১ম খন্ড-শ্রীতারকচন্দ্র রায় পৃষ্ঠা ২৯৪
9) ভারতীয় দর্শনের ইতিহাস-১ম খন্ড-শ্রীতারকচন্দ্র রায় পৃষ্ঠা ২৯৪,Ancient India as described by Megasthenes and Arrian - Page 97
10) ভারতীয় দর্শনের ইতিহাস-১ম খন্ড-শ্রীতারকচন্দ্র রায় পৃষ্ঠা ২৯৫, Marine Archeology in India-S.R Rao পৃষ্ঠা ৪৫
11) ভারতীয় দর্শনের ইতিহাস ১ম খন্ড শ্রীতারকচন্দ্র রায় পৃষ্ঠা ২৭৮
12) Iconography of protohistoric Swāt and the agricultural intensification period of IV - Massimo Vidale,Roberto Micheli and Luca Oliveri)
13) EPIGRAPHIA INDICA, Volume XXII এ Archeologist D. R. Bhandarkar, পৃষ্ঠা:১৯৮-২০৫ এবং Indian Epigraphy - Richard Salomon - পৃষ্টা ২৩৯-২৪০)
14) Marine Archeology in India - S.R Rao পৃষ্ঠা ৪৫, Wikipedia : Heliodorus pillar,Indian Epigraphy - Richard Salomon - পৃষ্টা 265 - 267
15) Marine Archeology in India-S.R Rao পৃষ্ঠা ৫০
16) মুঘল ভারতের ইতিহাস
17) YouTube : Sam Harris & Rupert Spira debate the primacy of Consciousness , Research papers: Is your brain really necessary ? - John Lober , Children Who Remember Previous Lives - Ian Stevenson
অন্যান্য তথ্যঃ
† শ্রীমদ্ভাভাগবতম - গীতাপ্রেস
† মহাভারত - হরিদাস সিদ্ধান্তবাগীশ
† বেদান্তসারঃ - শ্রীসদানন্দ যোগীন্দ্র সরস্বতী - অনুবাদ ও টীকা: স্বামী অমৃতত্বানন্দ
† ছান্দোগ্য উপনিষদ - শাঙ্করভাষ্য - অনুবাদক: পন্ডিত শ্রীযুক্ত দূর্গাচরণ সাংখ্য-বেদান্ততীর্থ
† Principal Upanishads - Dr. N.S Anantha Rangacharya (শ্রীভাষ্য - রঙ্গরামানুজ কর্তৃক)
† The 108 Upanishads
† উপনিষদ - স্বামী লোকেশ্বরানন্দ
† শুক্লযজুর্বেদ - অনুবাদক: শ্রীবিজনবিহারী গোস্বামী
† গৌড়ীয় বৈষ্ণব দর্শন - শ্রীরাধাগোবিন্দ নাথ
† গর্গসংহিতা - শ্রীযুক্ত পঞ্চানন তর্করত্ন
† শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা - অনুবাদক: স্বামী অমৃতত্বানন্দ
† নারদ ও শান্ডিল্য ভক্তিসূত্র - গীতাপ্রেস

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন



ধর্মীয় বাণী/উপদেশ

"দেবী! তুমি স্বাহা, তুমি স্বধা এবং তুমিই বষটকার। স্বরও তোমারই স্বরূপ। তুমিই জীবনদায়িনী সুধা। নিত্য অক্ষর প্রণবের অকার, উকার, মকার-এই তিনমাত্রারূপে তুমিই স্থিত, আবার এই তিন মাত্রা ছাড়া বিন্দুরূপা যে নিত্য অর্দ্ধমাত্রা-যাকে বিশেষরূপে আলাদাভাবে উচ্চারণ করা যায় না, তাও তুমিই। " (শ্রী শ্রী চন্ডীঃ ১/৭৩-৭৪)