একটি দাবি প্রায়ই শুনা যায় যে, ব্রহ্মসূত্র ১/৩/৩৮ এর ভাষ্যে আদিগুরু নাকী বলেছেন শূদ্র যদি বেদ শ্রবণ করে তবে তার কানে সীসা পুরে দিতে হবে। এই দাবির দ্বারা শিব অবতার শঙ্করচার্যকে অপমান করা হয় । বিষয়টির সত্যতা যাচাই করতেই এই আলোচনা -
১) নিচের ছবিতে লক্ষ্য করুন বলা হয়েছে যে, "শ্রবণ নিষেধ" এ কথা স্মৃতিতেও আছে। স্মৃতিগুলো একেক মুনির রচিত তাই ভিন্ন ভিন্ন সময় উপযোগী মত দেখতে পাওয়া যায়। তারপর "যথা" শব্দের উল্লেখ আছে এবং সীসা পুরে দেওয়ার কথা আছে। আমরা "যথা" শব্দ ব্যবহার করি উদাহরণ দেওয়ার ক্ষেত্রে। তাহলে আমরা বলেতেই পারি এটা একটি উদাহরণ। লক্ষ্য করুন আরেকটি বাক্যকে লাল কালিতে চিহ্নিত করা হয়েছে, এই বাক্য অনুযায়ী এ-সমস্ত কর্মগুলো শাস্তি স্বরূপ রাজা দিতেন।
[কেনো দিতেন? উত্তর পরের ধাপগুলোতে বর্ণিত]*
২) নিচের ছবিদুটো দেখলে পাবেন এই শাস্তি মূলত গৌতম ধর্মসূত্রে বর্ণিত (১২/৪ )। এই সূত্র ব্যবহার করেই আচার্য্য শঙ্কর লিখেছেন, কারণ বেদাঙ্গও শাস্ত্র এবং কেউ যদি বেদাঙ্গ অনুযায়ী বলতে চান যে শূদ্রের বেদ শ্রবণের অধিকার নেই তখন বিধান কি? সেটার উত্তর দিতেই সম্ভাব্য শাস্ত্র নির্দেশ বর্ণনা করে আদি গুরু ভাষ্য লিখেছেন।
বেদাঙ্গও স্মৃতি কারণ এগুলো বৈদিক যুগের ঋষি দ্বারা প্রণীত । অতএব এটা স্পষ্ট, আচার্য্য শঙ্করের এখানে কোনো দোষ লক্ষিত হয় না। এখন যারা বেদাঙ্গ অস্বীকার করেন তারা নিশ্চয়ই এগুলো দেখেও নিন্দা করবেন।
৩) নিচের দুটো ছবিতে দেখুন, বলা হয়েছে (এখানেও ধর্মসূত্রের বিধান অনুযায়ী ভাবদীপিকা) - কোনো শূদ্র যদি নিজ বুদ্ধিতে বেদ শ্রবণ করে তবে এইভাবে প্রায়শ্চিত্ত করতে হয় অন্যথা নয়।
এমন শাস্তির বিধান থাকার কারণ হচ্ছে - পূর্বে তো বিশুদ্ধ বর্ণ ব্যবস্থা ছিলো তাই শূদ্র তম গুণে আচ্ছন্ন থাকতো এবং নিজ কর্ম সঠিক ভাবে করার মাধ্যমে পরবর্তী জন্মে অন্য বর্ণের দেহ লাভ করতো। এখন কেউ যদি নিজের কার্য ফেলে রেখে অন্যের কার্য করতে আগ্রহী হয় তখনই সেই কার্য তম গুণের প্রভাবে বিকৃত হওয়ার একটি সম্ভাবনা থেকে যায়, একই সাথে নিজ কর্মের অবহেলা হয়ে থাকে (সবাই যদি পুরোহিতের কাজ করে তবে কৃষি কাজ সহ অন্যান্য কাজ কে করবে?)। একারণেই এরূপ শাস্তির বিধান ওই সlময়ের স্মৃতিতে রয়েছে।






