সকলকে নমষ্কার 🙏
একজন ইসলাম ধর্মের অনুসারী নিম্নোক্ত ছবির দ্বারা সিদ্ধ করতে চাচ্ছে যে সনাতন ধর্মে অবয়ব গোপন করে নারীর পর্দা করার বিধান আছে। ছবিটি হরফ প্রকাশনীর প্রকাশিত ঋগবেদের শাকল সংহিতার (মন্ত্র বা সংহিতা ভাগের) একটি মন্ত্র!
১) ঋগবেদের রেফারেন্স যেভাবে দিচ্ছে সেটা ভুল। শাখার নাম উল্লেখপূর্বক মন্ডল, সূক্ত, মন্ত্র লিখতে হয় অথবা, অষ্টক, অধ্যায়, সূক্ত, মন্ত্র বলতে হয়, আবার মন্ডল, অষ্টক, অধ্যায়, সূক্ত, মন্ত্র - এভাবেও দেওয়া যায়। সে শাখার নাম জানে না আর ছবি দেখে এবং রেফারেন্স দেওয়ার পদ্ধতি দেখে বুঝা যাচ্ছে প্রথমটি দিতে চাচ্ছিলো কিন্তু প্রথম পদ্ধতিতে অধ্যায় এর উল্লেখ আসবে না।
২) ছবি দিয়ে যেটা দাবি করা হয়েছে সেটা শুধু যজ্ঞকারীর কর্মের বাস্তবায়ন। হরফ থেকে টুকে সাত পাঁচ তেরো বুঝ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে ভালো কথা তবে টীকা অংশ ব্যতীত দাবি করা হলো কেনো?? হরফের টীকায় বলা হয়েছে - "প্রয়োগী পুরুষ হয়েও স্ত্রী হয়ে গিয়েছে "
৩) হরফ যেহেতু সায়ণাচার্যের ভাষ্যকে সম্পূর্ণরূপে মান্য করে বঙ্গানুবাদ করে নি তাই আমাদের কাছে হরফ মান্য নয়। সায়ণাচার্য কৃত উক্ত মন্ত্রের অনুবাদ হচ্ছে নিম্নরূপ -
इंद्र ने कहा - " हे प्रायोगि! तुम नीचे देखो, ऊपर मत देखो तुम पैरों को आपस में मिलाओ. तुम्हारे होंठों एवं कमर को कोई न देखे. तुम स्तोता होते हुए भी स्त्री हो.” (१९)
indr ne kaha - " he praayogi! tum neeche dekho, oopar mat dekho tum pairon ko aapas mein milao. tumhaare honthon evan kamar ko koee na dekhe. tum stota hote hue bhee stree ho.” (19)
ইন্দ্র বললেন "হে প্রয়োগী ! তোমার দৃষ্টি অবনত করো, ঊর্ধ্বমুখী করবে না। তোমার পা দুটো একত্র করো, তোমার ঠোঁট ও কোমর যেন কারোর দৃষ্টিগোচর না হয়। স্তোতা হয়েও তুমি নারী।"
(ঋগবেদ - শাকল শাখা - ৮/৩৩/১৯)
★এখানে স্পষ্ট করেই নির্দিষ্ট করা হয়েছে "ঠোঁট ও কোমর", সম্পূর্ণ অবয়ব গোপন করা তথা মুসলিমরা যেভাবে পর্দার বিষয়ে ইঙ্গিত করছে সে বিষয়ে নেই। হরফের 'অবয়ব' অর্থ করা হলেও প্রকৃতপক্ষে এবং মূল মন্ত্রের অর্থ অনুযায়ী 'সম্পূর্ণ অবয়ব' অর্থ বুঝানো হয় নি - এটা নিশ্চিত। মূলত আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যায় এই মন্ত্র দ্বারা বুঝানো হয়েছে নারীর বৈশিষ্ট্য অর্থাৎ অবনত বা নমনীয় দৃষ্টি যজ্ঞকারী তথা যজ্ঞের প্রয়োগীর যজ্ঞের সময় থাকতে হয়। এটা ত সহজ একটি বিষয় যে, যজ্ঞের সময় উপরের দিকে দৃষ্টি অর্থাৎ অহংকারী দৃষ্টি রাখা যাবে না, দৃষ্টি অবনত বলতে শ্রদ্ধাশীল রাখতে হবে এবং সেই শ্রদ্ধা যজ্ঞের প্রতি প্রদর্শন করতে হবে। তাছাড়া বেদের মন্ত্রভাগ কখনোই বিধি নয় (এ বিষয়টি অন্য লেখায় আছে - https://sanatan22sss.blogspot.com/2024/04/blog-post_9.html)
৪) তাছাড়া পঞ্চম বেদ ইতিহাস শাস্ত্রে (রামায়ণ ও মহাভারত হচ্ছে ইতিহাস শাস্ত্র) রয়েছে -
"গৃহ, বস্ত্র এবং গৃহপ্রাচীর প্রভৃতি মহিলাগণের পর্দা হতে পারে না। এইভাবে লোকজনকে দূরে সরিয়ে দেওয়া নিষ্ঠুরতার নামান্তর ; এইরূপে স্ত্রীলোকেদের জন্য আবরণ সৃষ্টি করা যায় না। পতির থেকে প্রাপ্ত সৎকার এবং পত্নীর সচ্চরিত্র— এই দুইই হল স্ত্রীগণের অদৃশ্য আচ্ছাদন।"
(রামায়ণ , যুদ্ধকাণ্ড – সর্গ ১১৪ - মন্ত্র ২৭ < সংস্করণ ভেদে ভিন্ন হতে পারে>)
সিদ্ধান্ত : সনাতন ধর্মে অন্য ধর্মের জ্ঞান খুঁজতে যাওয়া হচ্ছে মূঢ় -র ন্যায় কার্য। সনাতন শাস্ত্র নারীদের জন্য আলাদা নিয়ম তৈরি করে পর্দা করা তথা বস্তা বন্দী হওয়ার বিধান দেয় না ; উল্টো দেবীর মতো সুসজ্জিত থাকার কথা ও দেবীর সম্মান প্রাপ্ত করার অধিকার দিয়েছে।
সনাতন ধর্মের গভীর সত্যকে জানতে চাইলে আমাদের সাথেই থাকুন। ধৈর্য্য সহকারে পড়ার জন্য ধন্যবাদ। বানান ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন🙏
জয় সনাতন🙏
✍️ সাত্যকি দেব
গবেষক - RCSS of SSS
।ॐ।সত্যের সন্ধানে সনাতন।ॐ।
Tags
বেদ মন্ত্র বিষয়ক



অসাধারণ লেখা 🙏🥀
উত্তরমুছুন