মধ্যযুগে বাংলার শাসক হিসাবে বহিরাগত নবাবরা যতটা গুরুত্ব পেয়েছেন, দেশীয় বাঙালি রাজারা তার সিকির সিকিও পাননি। এর একটি কারণ যদি হিন্দু শাসকদের হাত থেকে মুসলমান শাসকদের হাতে ক্ষমতার দখল চলে যাওয়া হয়ে থাকে, আর একটি কারণ আমাদের ঐতিহাসিক ও শিক্ষাবিদরা। তাই মহারাষ্ট্রের শিবাজীকে নিয়ে উচ্ছ্বাস দেখানো হলেও বাংলার প্রায় সমতুল্য রণকৌশল ও অনেক বেশি প্রজাবৎসল রাজা প্রতাপাদিত্য পাঠ্যপুস্তকে উল্লিখিত শুধু বাংলার বারো ভুঁইয়ার অন্যতম হিসাবে (যদিও তিনিই ছিলেন ঐতিহাসিক মোঘল বিরোধী বারো ভুঁইয়ার প্রধান , আমাদের ভুল ইতিহাসে ঈশা খাঁ - কে বারো ভুঁইয়ার প্রধান বলা হয় <অনেকের মতে মোঘল বিরোধী রাজাদের বারো ভুঁইয়া উপাধি মুসলিম শাসকদেরই দেওয়া>) , যিনি মোগলের বশ্যতা স্বীকার করেননি। কিন্তু উনার সম্পর্কে প্রায় অনেকই জানেন না!!
শিবাজীর চেয়ে অগ্রজ হওয়া সত্ত্বেও মহারাজ প্রতাপাদিত্যকে (জন্ম ১৫৬১ খ্রীস্টাব্দ) সম্মান জানাতে ব্যবহৃত হয় ‘বাংলার শিবাজী’ যেখানে বিপরীতটা হওয়াই সঙ্গত ছিল; কারণ ১৬০০ সাল নাগাদ প্রতাপাদিত্যের শৌর্যের খ্যাতি সারা ভারতে এতটাই ছড়ায়, যে তাঁর ক্ষমতার নেপথ্যে অলৌকিক দৈব আশীর্বাদের গল্পও জনশ্রুতি হয়ে দাঁড়িয়েছিল, আর শিবাজীর জন্ম তার অনেক পরে (১৬৩০ খ্রিস্টাব্দে)
প্রতাপের বাবা শ্রীহরি বাংলার আফগান শাসক দাউদ খান কররানির অধীনে একজন প্রভাবশালী ও বিশ্বস্ত রাজ কর্মচারী হিসাবে কাজ করে কালক্রমে নবাবের কাছ থেকে মৃত চাঁদ খানের জমিদারি ও ‘বিক্রমাদিত্য’ উপাধি লাভ করেন। পরে দাউদ খানের পতনের পর শ্রীহরি বিপুল সংখ্যক সরকারি সম্পদের মালিক হয়ে ১৫৭৪ সালে খুলনা জেলার বাওর এলাকায় গিয়ে নিজেকে ‘মহারাজা বিক্রমাদিত্য’ হিসেবে ঘোষণা করেন। বৈষ্ণব মতে শ্রীহরির আর এক নাম ছিল গোপীনাথ। ১৫৬১ সালে অতি অল্প বয়সেই তিনি পিতৃত্ব লাভ করেন। পুত্রের রাখা হয় প্রতাপ গোপীনাথ। সেই রাজপুত্রই পরে ‘প্রতাপাদিত্য’ নামে খ্যাতি অর্জন করেন। উত্তর চব্বিশ পরগনা থেকে শুরু করে, বর্তমান বাংলাদেশের কুষ্টিয়া, যশোর ও নড়াইল পর্যন্ত বিস্তৃত রাজ্যে প্রবল প্রতাপে প্রায় ২৫ বছর রাজত্ব করেন প্রতাপাদিত্য। জমিদারি উত্তরাধিকারসূত্রে পেলেও প্রতাপের কৃতিত্ব নতুন ধূমঘাটে নতুন রাজধানী স্থাপনে ও মুঘলদের বিরুদ্ধে লাগাতার বিদ্রোহ করে স্বাধীনতা ঘোষণায়। একটি সূত্র জানাচ্ছে ধূমঘাটই পরে যশোহর নামে পরিচিত হয়, যা গৌড়ের যশ হরণ থেকে উদ্ভূদ। যশোহরের অধিষ্ঠাত্রী দেবী যশোরেশ্বরী কালী মন্দির তাঁরই প্রতিষ্ঠা করা।
জন্মের পরেই জ্যোতিষীর ভবিষ্যৎবাণী ছিল পিতৃদ্রোহিতার ! শ্রীহরি বিষাদ মনে অন্নপ্রাশনে পুত্রের নাম রাখলেন ' প্রতাপাদিত্য '। উপরন্তু জন্মের দিন কয়েক পরেই জন্মদাত্রী মা মারা গেলেন । ফলে বাবা শ্রীহরি ছেলে সম্পর্কে কিছুটা নিরাসক্ত হয়ে যান। শিশু প্রতাপকে বুকে তুলে নেন কাকা বসন্ত রায় ও তাঁর স্ত্রী। স্নেহময়ী এই কাকিমাকেই নিজের মা বলে জানতেন। প্রতাপাদিত্যের রাজত্বে তাঁর কোনও সহধর্মিণী নয়, এই কাকিমাই ‘যশোরের মহারানী’ হিসাবে পরিচিত ছিলেন। প্রখর বুদ্ধি ও মেধায় বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি এবং কাকার তত্ত্বাবধানে রাজনীতির শিক্ষা রপ্ত করেছিলেন। পাশাপাশি ছিল তরবারি ও তীর চালনা এবং মল্লযুদ্ধে অসমান্য কুশলতা। ছুটো থেকেই সুন্দরবনের বাঘ- কুমিরের সঙ্গে লড়াই করে প্রতাপ হয়ে উঠেছিলেন দুর্দমনীয়!
অল্প বয়সেই ফুটে ওঠে নেতৃত্বের লক্ষণ, যার জন্য কাকা বসন্ত রায় উৎসাহ নিয়ে প্রতাপকে রাজ্য শাসনের শিক্ষাও দিতে শুরু করেন। কিন্তু অতিরিক্ত মৃগয়া-প্রবণ ও কিছুটা উদ্ধত হয়ে ওঠায় বাবা কাকা কিশোর প্রতাপকে শান্ত করতে বিয়ে দিয়ে দেন। প্রথমে কুলীন কায়স্থ জগদানন্দ রায়ের (বসু) কন্যার সাথে ও পরে ১৫৭৮ সালে অব্যল্য জিতামিত্র নাগের কন্যা শরৎকুমারীর সঙ্গে মহাসমারোহে বিবাহ হয়। দ্বিতীয় স্ত্রী শরৎকুমারীই ছিলেন পাটরাণী বা প্রধান মহিষী। তৃতীয় বিবাহও হয়েছিল, তবে তা প্রতাপের রাজা হবার অনেক পরে। কিন্তু সুন্দরী গুণবতী স্ত্রী পেয়েও প্রতাপের প্রতাপের শিকারপ্রিয়তা ও উদ্দামে লাগাম পরানো যায়নি।
দামালপনায় অতিষ্ঠ হয়ে পিতা ও পিতৃব্য ১৯৭৮-এর শেষ দিকে আগ্রায় সম্রাট আকবরের রাজ দরবারে প্রতাপকে পাঠান যশোহরের প্রতিনিধি করে। টোডর মলের মাধ্যমে বাদশার সঙ্গে যোগাযোগ হয়। তিন বছর ছিলেন সেখানে। সেখানে পরিচিত হলেন মোগলদের বিশাল সাম্রাজ্য শাসন ও রাজপুত বীরদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে। ১৫৮০ খৃষ্টাব্দে টোডর মল বঙ্গের জায়গীরদারদের বিদ্রোহ দমন করতে গিয়ে বছর খানেক বাংলার শাসনভার সামলান। প্রতাপের ব্যক্তিত্বে সম্ভবত আকবরও যথেষ্ট প্রভাবিত হয়েছিলেন। হয়তো তাই টোডর মলের অনুপস্থিতিতে , প্রতাপ কৌশলে যশোর রাজ্যের সনদ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। শুধু তাই নয়, পরপর দু-তিনবার রাজা বিক্রমাদিত্য ও বসন্ত রায়ের পাঠানো রাজস্ব রাজকোষে জমা না দিয়ে নিজের কুক্ষিগত করে রাখা সত্ত্বেও, রাজস্ব ঘাটতি ধরা পড়ার পর কাকার ঘাড়ে দোষ চাপানোয় যশোরের জায়গির রাজা বিক্রমাদিত্যের হাত থেকে কেড়ে নেওয়া হল ঠিকই, কিন্তু স্বয়ং বাদশার হস্তক্ষেপে তার দ্বিতীয় সনদ প্রতাপকেই দেওয়া হয়। সম্রাটের অনুকম্পা লাভ করলেও মুঘল আধিপত্য থেকে মুক্ত হওয়ার অবদমিত ইচ্ছা বোধহয় তখন থেকেই। সেই সময় কতই বা বয়স হবে প্রতাপের? ২০-২২-এর বেশি নয়।
১৫৮২ নাগাদ আগ্রা থেকে যশোরের দ্বিতীয় সনদ নিয়ে প্রতাপ বাড়ি ফিরলে রাজা বিক্রমাদিত্য রাজ্যের ৫/৮ ভাগ পুত্র প্রতাপাদিত্য ও ৩/৫ অংশ ভাই বসন্ত রায়ের মধ্যে ভাগ করে দেন। প্রতাপাদিত্য দেখলেন সম্রাট আকবর আগ্রার রাজদরবার, রাজনীতি ও রাজপরিবারের অন্তর্কলহ নিয়ে ব্যতিব্যস্ত থাকায় সমগ্র ভারতবর্ষেই বিদ্রোহ দানা বাঁধছে। এই সুযোগে প্রতাপ শক্তি সঞ্চয় ও সীমান্ত রক্ষার জন্য সৈন্যবাহিনীকে প্রস্তুত করা শুরু করেন। এই লক্ষ্যেই তিনি নতুন রাজধানীর প্রস্তুতি নিতে লাগলেন এবং মুঘলদের বিতাড়নের উপায় নিয়ে বঙ্গের অন্য ভুঁইয়াদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করলেন। ভুঁইয়াদের মধ্যে কেউ কেউ প্রতাপের এই বিদ্রোহী চেতনার প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করলেও অনেকেই দূরত্ব বজায় রাখেন। এরপর ১৫৮৩ সালে রাজা বিক্রমাদিত্যের মৃত্যুর পর যশোর নগরের ৮-১০ মাইল দক্ষিণে যমুনা নদী ও ইছামতী নদীর সঙ্গমস্থলে সুন্দরবন ঘেঁষে ধুমঘাট নামে এক স্থানে নতুন নগরী প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানেই ১৫৮৪ সালে প্রতাপাদিত্যের রাজ্যাভিষেক হয়। প্রবাদ আছে যে, প্রতাপের রাজ্যাভিষেক উৎসবে এক কোটি টাকা খরচ হয়েছিল। তাঁর অভিষেকে বারোভুঁইয়াদের অনেকে যশোর গিয়েছিলেন এবং বঙ্গের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখার জন্য একত্রে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। রাজ্যের অধীশ্বর হয়েই ধূমঘাটে রাজধানী স্থানান্তরে উদ্যোগী হন। মুঘলদের বিরুদ্ধে শক্তি সঞ্চয় করতে পাঠানদের সঙ্গে মিত্রতা করেন তিনি। তাঁর সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিল একাধিক পাঠান সেনানায়ক। ১৫৮৭ সালে ধুমঘাটের দূর্গ নির্মাণ শুরু হলে তার প্রধান দায়িত্ব ছিল পাঠান সেনাপতি কমল খোজার উপর। দুর্গটির ধ্বংসাবশেষ বর্তমানে তীরকাটি জঙ্গলের মধ্যে পাওয়া যায়।
প্রতাপাদিত্য সিংহাসনে আরোহণ করেই সৈন্যবল বৃদ্ধিতে মনোনিবেশ করেন। সুচতুর প্রতাপ প্রথম থেকেই মোঘলদের সাথে সদ্ভাব বজায় রেখে চলতে থাকেন। তিনি মোঘলদের আহ্বানে সামন্তরাজ হিসাবে কয়েকবার যুদ্ধযাত্রা করেছিলেন। তিনি মোঘলদের সাথে যেসব যুদ্ধযাত্রায় অংশগ্রহণ করেছিলেন তার মধ্যে মানসিংহের সাথে উড়িষ্যা অভিযান উল্লেখযোগ্য। উড়িষ্যা থেকে তিনি গোবিন্দ দেব বিগ্রহ এবং উৎকলেস্বর থেকে শিব লিঙ্গ এনে গোপালপুর ও বেদকাশী নামক স্থানে স্থাপন করেন।প্রায় একই সময় প্রতাপ প্রতিষ্ঠা করলেন দেবী যশোরেশ্বরীকেও। কিছুদিনের মধ্যেই উড়িষ্যা বিজয়কে স্মরণীয় করে রাখতে বৈশাখী পুর্ণিমার পুণ্য তিথিতে ধুমঘাট দুর্গে প্রবল ধুমধামের সঙ্গে প্রতাপের দ্বিতীয়বার রাজ্যাভিষেক সম্পন্ন হল।
মহারাজা প্রতাপাদিত্য রাজদন্ড গ্রহণ করে বঙ্গোপসাগরীয় উপকূলে মগ ও পর্তূগীজ জলদস্যুদের অত্যাচার দমনে মনোনিবেশ করেন। মগ ও ফিরিঙ্গিদের অত্যাচারে ভারতের ভূস্বর্গ , বঙ্গ-দেশে অরাজকতার সৃষ্টি হল। মগেরা কোন শাসন মানত না। মগেরা যে মুল্লুকে যেত সে এলাকাকে একেবারে ধ্বংস করে ছাড়িত। তৎকালে দক্ষিণ বঙ্গ জলদস্যুদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে উঠেছিল। তারা এদেশের নারী পুরুষ ধরে নিয়ে ক্রীতদাস হিসেবে বিক্রি করতো। বন্দীদেরকে হাতের তালুতে ছিদ্র করে সরু বেত ঢুকিয়ে জাহাজের পাটাতনের নীচে বোঝাই করে নিয়ে যাওয়া হতো। ভাগীরথী থেকে সুদুর চট্টগ্রাম পর্যন্ত তারা এরুপ উপদ্রব চালাত। প্রতাপাদিত্য এদের বশীভূত করেন। অনেকেই তাঁর সেনাবাহিনীতে যোগদান করেছিল।
রাজনীতি বিশারদ প্রতাপ রাজত্বকালে প্রয়োজন বুঝে নানা স্থানে দূর্গ নির্মাণ করেন। প্রতাপের দূর্গসমূহ পশ্চিমে হুগলী নদী থেকে পূর্বে বলেশ্বর নদী পর্যন্ত এলাকাজুড়ে ছিল। তিনি বেশ কয়েকটি দূর্গ নির্মাণ করেন। সেগুলোর নাম হল - যশোর দূর্গ, ধূমঘাট দূর্গ, কমলপুর দূর্গ, বেদকাশী দূর্গ, শিবসা দূর্গ, জগদ্দল দূর্গ, সালিখা দূর্গ, সাতলা দূর্গ, আড়াই বাকী দূর্গ, মনি দূর্গ, রায়মঙ্গল দূর্গ, তকশ্রী দূর্গ ইত্যাদি। অনেকগুলি দূর্গ গভীর অরণ্যে অবস্থিত ছিল। এখনও কিছু কিছু দূর্গের ভগ্নাবশেষ দেখতে পাওয়া যায়।
প্রতাপাদিত্য নিম্নবঙ্গ ও সুন্দরবন অঞ্চলে নদীনালা ও খাল বিলের কথা বিবেচনা করে নৌশক্তি ও নৌবাহিনীর দিকে মনোনিবেশ করেন।অধ্যাপক রাধা কুমুদ মুখার্জি এর পর্যালোচনায়," তৎকালীন সময়ে বাংলার হিন্দুরা যাদের মূল নৌঘাঁটি অবস্থিত ছিল চান্দিখান এবং সাগরদ্বীপে। এ দুটি নৌঘাঁটি দুর্ধর্ষ রাজা প্রতাপাদিত্যের নিয়ন্ত্রণে ছিল। অনেক যুদ্ধজাহাজ সর্বদা যুদ্ধযাত্রার জন্য প্রস্তুত অবস্থায় থাকত। এছাড়াও আরও তিনটি স্থানে প্রতাপাদিত্যের শিপ ইয়ার্ড এবং ডকইয়ার্ড ছিল। সেই স্থানগুলি হল ধুবালি, জাহাজঘাটা, এবং চাকরাশি। সেখানে যুদ্ধ জাহাজ মেরামত এবং সংরক্ষণ করা হতো।"প্রতাপ দেশে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংস্থান, নদীর অবস্থা ও উপকূলের প্রকৃতি বিচার করে কাতরী নির্মাণ করেন। প্রতাপ বাহিনীর ব্যবহৃত দ্রুতগামী নৌকা সমূহের মধ্যে ছিল - ঘুরাব, বেপারী, কোশা, বলিয়া, পাল, মাচোয়া, পশতা, জালিয়া, পিয়ারা, মহলগিরি প্রভৃতি। এই সকল নৌকাসমূহের মধ্যে ঘুরাব সবচেয়ে শক্ত ওশক্তিশালী। যশোরের কারিগরগণ জাহাজ নির্মাণে বিশেষরুপে দক্ষ ছিলেন। তৎকালে শায়েস্তা খাঁ যশোর থেকে অনেক জাহাজ প্রস্তুত করে নিয়েছিলেন। প্রতাপাদিত্যের উৎকৃষ্ট কাতরীর সংখ্যা সহস্রাধিক ছিল। ইসলাম খাঁর নবাবী আমলে আব্দুল লতীফ নামে একজন ভ্রমণকারীর বিবরন হতে জানা যায়, “প্রতাপাদিত্য বঙ্গদেশের শক্তিশালী রাজা। তাঁর যুদ্ধসামগ্রীতে পূর্ণ সাতশত নৌকা এবং বিশ হাজার পদাতিক সৈন্য ছিল এবং তার রাজ্যের আয় পনের লক্ষ টাকা।” বর্তমানে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ - শ্যামনগর সড়কের পূর্ব পার্শ্বে মৌতলার নিকট তার জাহাজ ঘাটা কুয়ার বন নামক স্থানে জাহাজের পোতাশ্রয় ছিল। নিকটবর্তী দুদলিয়া গ্রামে ছিল তার কাতরী নির্মাণের ডক। জাহাজঘাটার নৌবিভাগের সর্বাধ্যক্ষ ফ্রেডারিক ডুডলির নামে একটি গ্রাম আছে। ডকের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন খাজা আব্দুল্লাহ এবং নৌসেনার অধ্যক্ষ ছিলেন অগাষ্টস পেড্রো।
প্রতাপাদিত্যের আমীর ওমরাহগনের মধ্যে সূর্যকান্ত ও শংকর প্রতিপত্তিশালী ছিলেন। পন্ডিত, ধীরশক্তির অধিকারী এবং প্রতিভা সম্পন্ন শংকর চক্রবর্তী রাজস্ব ও রাজ্য শাসনের ব্যাপারে পরিদর্শন করতেন। মহাযোদ্ধা, অসমসাহসী, সবশাস্ত্র বিশারদ এবং লোক পরিচালনে অদ্বিতীয়, ক্ষমতাশালী সূর্যকান্ত রাজত্বের প্রথম ভাগে রাজ্যের প্রধান সেনাপতি ছিলেন। তিনি সৈন্য রক্ষণ, যুদ্ধব্যবস্থা ও বলসঞ্চয়ের দায়িত্ব পালন করতেন। শঙ্কর দেওয়ান , মন্ত্রণা বিভাগের কর্তা এবং সূর্যকান্ত , সৈন্যবিভাগের অধ্যক্ষ। প্রতাপ হিন্দুরাজা হয়েও পাঠান ও পর্তুগীজ সৈন্যরা যুদ্ধে অধিকতর দক্ষ ছিলেন বলে তাদেরও নিযুক্ত করতেন। প্রতাপের সেনাবাহিনীতে নয়টি ভাগ ছিল। প্রধান সেনাপতির অধীন এর প্রত্যেক বিভাগে পৃথক পৃথক সেনানী ছিল। সেনাবাহিনীতে ঢালি বা পদাতিক সৈন্য, অশ্বারোহী সৈন্য, তীরন্দাজ সৈন্য, গোলন্দাজ সৈন্য, নৌ সৈন্য, গুপ্ত সৈন্য, রক্ষী সৈন্য, হস্তী সৈন্য, কুকী সৈন্য - এই নয় বিভাগে বিভক্ত ছিল। যুদ্ধে ঢাল, তলোয়ার, শড়কী, বল্লম, লেজা, কামান, বন্দুক, বর্শা, তীর প্রভৃতি অস্ত্র শস্ত্র ব্যবহৃত হতো। প্রতাপের ঢালী বাহিনীর অধিনায়ক ছিলেন মদন মল্ল। অশ্বারোহী বাহিনীর প্রধান অধ্যক্ষ প্রতাপ সিংহ দত্ত এবং সহকারী ছিলেন মাহিউদ্দীন, বৃদ্ধ নূরউল্লা প্রভৃতি। তীরন্দাজ বাহিনীর প্রধান ছিলেন সুন্দর ও ধুলিয়ান বেগ। গোলন্দাজ বাহিনীর অধ্যক্ষ ছিলেন ফ্রান্সিসকো রড়া। নৌবাহিনীর প্রধান ছিলেন অগষ্টাস পেড্রো। সুখা নামক এক দুঃসাহসী বীর গুপ্ত বাহিনীর প্রধান ছিলেন। রক্ষী বাহিনীর প্রধান ছিলেন রত্নেশ্বর বা যজ্ঞেশ্বর , বিজয় রাম ভক্ত চৌধুরী প্রমুখ।
প্রতাপাদিত্যের সেনাবাহিনীর বেশিরভাগ সদস্য ছিলেন বাঙ্গালী কায়স্থ, রাজপুত, পর্তুগিজ সৈন্য এবং আফগান মুসলমান ( জেনে রাখা উচিত আফগানরা পূর্বে হিন্দু ছিল , তাদের রাজ্যের নাম ছিলো গান্ধার ; তাই বহিরাগত অত্যাচারী মুসলীম শাসক থেকে তাঁরা হাজারগুণে ভালো ছিলেন এবং বহিরাগত অত্যাচারী মুসলীম শাসকদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হিন্দু রাজাদের সহায়তা করেছেন )
প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায় যে, ১৫৮৭ খ্রিষ্টাব্দে প্রতাপাদিত্য নিজ হাতে রাজ্য শাসন শুরু করেন। ঐ বছরই ধুমঘটি দুর্গ নির্মাণ শুরু হয় এবং অচিরেই কাজ সমাপ্ত হয়। মোঘলদের সামন্তরাজ হবার জন্য মানসিংহের সহিত উড়িষ্যাভিযানে যান। উড়িষ্যা যুদ্ধ থেকে ফিরবার পরে তিনি স্বাধীনতা ঘোষণার মনস্থ করেন এবং মোঘলদের বিরুদ্ধাচারণ করতে শুরু করেন। য*বন হঠিয়ে হিন্দুরাজ্য স্থাপনের দুঃসাহসিক প্রচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছিলেন এই অকুতৌভয় রাজা প্রতাপাদিত্য৷ বসন্ত রায় এর ভয়াবহ পরিনামের কথা ভেবে তাকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা করলে প্রতাপ নিরতিশয় ক্ষুদ্ধ হন৷
কথিত আছে যে, প্রতাপ ও তাহার জামাতা রামচন্দ্র রায়ের মধ্যে যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়েছিল, তার মূলে বসন্ত রায়ের কারসাজি ছিল৷ইত্যবসরে বাৎসরিক পিতৃশ্রাদ্ধ উপলক্ষ্যে কাকা বসন্ত রায়ের কাছ থেকে নিমন্ত্রণ পেলেন প্রতাপ৷ এখানেই ঘটে গেল একটি মারাত্মক ট্র্যাজেডি। নির্দিষ্ট দিনে ঘনিষ্ঠ মিত্রদের কাকার বাড়ী পৌঁছলেন সন্দিগ্ধ প্রতাপ। বসন্ত রায়ের ছেলে গোবিন্দ তাঁর বাবাকে প্রতাপের পৌঁছনোর সংবাদ দিতে গেলেন। বসন্ত সান্ধ্যকালীন পূজার আয়োজনে ব্যস্ত ছিলেন। একজন পরিচারককে নির্দেশ করলেন গঙ্গাজল আনার জন্য। দুর্ভাগ্যক্রমে “গঙ্গাজল” ছিল বসন্ত রায়ের অত্যন্ত প্রিয় অস্ত্র এবং এ তথ্য প্রতাপের অজানা ছিল না৷ তাই, প্রতাপ কাকার এই আদেশ শুনতে পেয়ে মনে করলেন তাঁকে খুন করার জন্যই কাকা ওই পরিচারককে উপরোক্ত অস্ত্র আনতে আদেশ দিচ্ছেন । তক্ষুণি আত্মরক্ষার্থে নিজস্ব তরবারি বের করে ফেললেন প্রতাপ। গোবিন্দ যে মুহুর্তে দেখলেন বসন্ত রায় আক্রান্ত হতে চলেছেন, বাবাকে প্রতাপের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য তিনি নিজের অস্ত্র ছুঁড়ে দিলেন প্রতাপের দিকে,কিন্তু অস্ত্র লক্ষ্যচ্যুত হল। আতঙ্কিত এবং ক্রুদ্ধ প্রতাপ গোবিন্দকে তড়িৎ গতিতে আক্রমণ করলেন৷ অল্পক্ষণের মধ্যেই নিহত হলেন গোবিন্দ। দুপক্ষের লোকজনই সশস্ত্র হয়ে পরস্পরকে আক্রমণ শুরু করল।ভীত বসন্ত রায় আত্মরক্ষার্থে এবার সত্যিই “গঙ্গাজল” আনতে আদেশ দিলেন। কিন্তু হায়! তখন বড় দেরী হয়ে গেছে। প্রতাপের তরবারির কঠিন আঘাতে মুহুর্তের মধ্যেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ল বসন্ত রায়ের ছিন্ন মাথা। পিতৃব্য এবং ভ্রাতৃরক্তে রঞ্জিত হয়ে গেল প্রতাপের হাত। নিয়তির পরিহাস ছাড়া কিই বা বলা যায় একে! পিতৃব্যের মৃত্যুর পর প্রতাপাদিত্য সমগ্র যশোর-খুলনা রাজ্যের অধিকার লাভ করেন এবং মহারাজ উপাধি ধারণ করে রাজ্য শাসন করতে থাকেন।
এই সময় বাংলা ও উড়িষ্যার মোঘল-পাঠান শক্তির মধ্যে সংঘর্ষ চলতে থাকে। প্রতাপ স্বভাবতই পাঠান শক্তির অনুকূলে ছিল। সেসময় তার মনে ভাটি বাংলায় একটি স্বাধীন রাজ্য সংস্থাপনের আশাও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। ১৫৯৯ খ্রিষ্টাব্দের কাছাকাছি প্রতাপ বাংলার মোঘল সুবেদারকে অমান্য করে রাজ্য শাসন করে যেতে লাগলেন এবং স্বাধীনতা ঘোষণা করলেন।
প্রতাপাদিত্যের সমর সজ্জার উদ্দেশ্য বাংলার সুবাদারের কর্ণগোচর হলে তিনি পর্যায়ক্রমে শের খাঁ এবং ইব্রাহীম খাঁ নামক দুইজন মোঘল সেনাপতিকে প্রতাপের বিরুদ্ধে প্রেরণ করলেন। কিন্তু তার প্রতাপকে সামান্য ভূস্বামী মনে করে যশোহরে আসলো। কিন্তু কোন কার্যকরী ব্যবস্থাই গ্রহণ করতে পারল না। তার যশোহর বাহিনীর নিকট পরাজয় স্বীকার করে পশ্চাদপসরণ করল।
প্রতাপাদিত্য পর পর দুবার মোঘল বাহিনীকে পরাজিত করেন। তিনি মোঘল শাসনাধীন সপ্তগ্রাম বন্দর লুট করে ধন সঞ্চয় করতে অগ্রসর হলেন। সপ্তগ্রামের ফৌজদার প্রতাপাদিত্যের অতর্কিত আক্রমণ রোধ করতে পারলেন না। ফলে সপ্তগ্রামের সমুদয় ধন সম্পদ প্রতাপাদিত্যের কুক্ষিগত হল।
এই সময় আগ্রার দরবারে নানারকম অশান্তি বিরাজ করছিল। বাদশাহ আকবরের মৃত্যুর পর শাহজাদা সেলিম নুরুদ্দীন মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর নাম ধারণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন। এইবার জাহাঙ্গীর -এর দরবারে প্রতাপাদিত্য সম্পর্কে নানা অভিযোগ উত্থাপিত হলো। এই সময়ে বসন্ত রায়ের পুত্র কচু রায়ও সমগ্র কাহিনী বাদশাহের গোচরীভূত করল। সমুদয় অভিযোগ শুনে জাহাঙ্গীর তাঁর সেনাপতি মানসিংহকে পাঠালেন প্রতাপাদিত্যকে দমনের জন্য। রাজা মানসিংহ কুটনীতির প্রয়োগে সিদ্ধহস্ত ছিলেন। তিনি বুঝেছিলেন তাঁর সামনে সম্রাট ঝুলিয়ে দিয়েছেন প্রতাপরূপী মৃত্যুর খাঁড়া, আর সেই মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করতে গেলে চাই উপযুক্ত কুট কৌশল, তাই প্রথমেই তিনি চেষ্টা শুরু করলেন প্রতাপের শিবিরে ভাঙন ধরিয়ে নিজের পক্ষে নিয়ে আসার৷ তিনি প্রথমেই পেয়ে গেলেন দিল্লীতে অবস্থানকারী রূপরাম ও কচু রায়কে। প্রতাপের সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধিতে ঈর্ষাণ্বিত, ভবানন্দ মজুমদার যোগ দিলেন রাজা মানসিংহের শিবিরে। কথিত আছে রামচন্দ্র ও তাঁর পুত্র ভবানন্দ কর্মাণ্বেষণে যশোরে এসে পৌঁছোন এবং রাজ্যসরকারে নিযুক্ত হন। উচ্চাকাঙ্খী ভবানন্দ সুমধুর ব্যবহারে প্রতাপের মন জয় করে নেন এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তে ঢুকে পড়েন।তিনি প্রতাপের ঋণ চোকালেন যথাসময়ে প্রতাপকে পরিত্যাগ করে তাঁর শত্রুপক্ষে যোগ দিয়ে। অচিরেই প্রতাপকে নির্মুলের ছক কষে ফেললেন মানসিংহ।
মানসিংহ বাংলায় এসে সসৈন্য যশোর রাজ্যের বিরুদ্ধে অগ্রসর হলেন এবং কপোতাক্ষ নদের তীরে শিবির স্থাপন করে থাকলেন। মানসিংহের এ যাত্রা সম্পর্কে ভারতচন্দ্র বলেন,
'আগে পাছে দুই পাশে দু’সারি লস্কর।
চললেন মানসিংহ যশোহর নগর।।
মজুন্দারে সঙ্গে নিলা ঘোড়া চড়াইয়া।
কাছে কাছে অশেষ বিশেষ জিজ্ঞাসিয়া।'
হঠাৎ একদিন ভীষণ ঝড় বৃষ্টি হয়ে মানসিংহের তামান রসদ ও ছাউনী বৃষ্টির জলে ভিজে গেল। শুকনা জ্বালানী কাঠ ও খাদ্যের অভাবে সৈন্যদের ভীষণ অসুবিধা হলো৷ ভবানন্দ গোবিন্দদেবের বিগ্রহ প্রতিষ্ঠার অছিলায় যে বিপুল অর্থ ও খাদ্যদ্রব্য সংগ্রহ করেছিলেন তা সমর্পণ করে দিলেন মানসিংহের কাছে৷ তারই সাহায্যে মানসিংহ ধুমঘাট আক্রমণ করতে সমর্থ হন।
প্রতাপ এবং তার পুত্র উদয়াদিত্য ও অন্যান্য সেনানায়কগণ দীর্ঘদিন ধরে মোঘল বাহিনীর সাথে কতিপয় খন্ড যুদ্ধ করলেন। যে দেশ বিশ্বাসঘাতকে পরিপূর্ন, সেখানে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের প্রয়াস যে কত বড় ভ্রম প্রতাপ অচিরেই তা অনুধাবন করলেন। যে সমস্ত আত্মীয়স্বজন এতদিন ধরে প্রতাপের অন্নে পালিত হয়েছেন ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার লক্ষ্যে, তারাই যোগ দিলেন মান সিংহের দলে, জানিয়ে দিলেন যশোর দুর্গের গোপনীয় বিষয়সমুহ, আর এই যোগাযোগের সূত্রধর হিসাবে কাজ করলো কৃতঘ্ন ভবানন্দ। অচিরেই ঘটে গেল যশোর দুর্গের পতন। মান সিংহ সন্ধির প্রস্তাব পাঠালেন। কিন্তু সম্প্রতি পুত্রহারা প্রতাপ, নিকট আত্মীয়স্বজনদের কৃতঘ্নতায়, মুষ্টিমেয় অনুচরদের নীচ মানসিকতার পরিচয় পেয়ে প্রতাপ ক্ষোভে,দুঃখে মুহ্যমান হয়ে পড়লেন৷পতন নিশ্চিত জেনেও আর সন্ধি করতে রাজী হলেন না৷ অবশিষ্ট সৈন্য নিয়ে প্রতাপ ও শঙ্কর ঝাঁপিয়ে পড়লেন মুঘল সেনার উপর, সারা দিন ব্যাপী যুদ্ধে নিদারুণ ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হলেন মানসিংহ। অসীম সাহস ও অসামান্য রণচাতুর্য প্রদর্শন করেও প্রতাপ শেষ যুদ্ধে বন্দী হলেন৷সম্ভবত ১৬০৬ সনের মাঝামাঝি এক বিষণ্ণ সন্ধ্যা , বাঙ্গলার ভাগ্যাকাশে যে স্বাধীনতার সুর্য উঠেছিল তা অস্তমিত হলো। মান সিংহের আদেশে নির্মম ভাবে লুণ্ঠিত যশোর ও ধুমঘাট। প্রতাপের স্ত্রী অপমানিত হওয়ার ভয়ে ব্রহ্মপুত্রের জলে ডুবে আত্মহত্যা করলেন৷ রাজা মানসিংহ বন্দী প্রতাপাদিত্যকে পিঞ্জরাবদ্ধ অবস্থায় আগ্রায় প্রেরণ করলেন। কিছু মুঘল সূত্র থেকে জানা যায় বন্দী অবস্থায় দিল্লী নিয়া যাওয়ার পথে বেনারস থেকে পুনরায় পালিয়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে বাংলায় ফেরার পথে তিনি মারা যান। অর্থাৎ রাজত্ব হারালেও মৃত্যু হয়েছিল স্বাধীন অবস্থাতেই।
রামদাস স্বামীর ভাষায়,
“বলিলে যে বঙ্গদেশী প্রতাপের কথা, শুন গুরত্ব তার।তেজোবীর্য্যগুণে প্রতাপ প্রস্ত্তত ছিলো স্বাধীনতা লাভে, কিন্তু তা’র জাতি, দেশ না ছিল প্রস্তুত; জ্ঞাতিবন্ধু বহু তা’র ছিল প্রতিকূল, তাই হল ব্যর্থ চেষ্টা। মূঢ় সেই নর, দেশ, কাল, পাত্র মনে না করি’ বিচার, একা যে ছুটিতে চায়; চরণস্খলনে নাহি রহে কেহ ধরি’ উঠাইতে তারে।।”
👉রাজপুতানার রাণা প্রতাপের মতো প্রতাপাদিত্যের রাজ্য সরাসরি জয় করে মুঘলরা তাঁকে সিংহাসন চ্যুত করতে চায়নি। তিনি চাইলে স্বচ্ছন্দে মুঘল সাম্রাজ্যের একজন করদ রাজা বা জায়গিরদার হয়ে প্রজাদের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপিয়ে নিজে রাজকীয় জীবনযাত্রা বজায় রাখতেই পারতেন, যেভাবে বঙ্গের অন্যান্য জমিদারগণ অনেকেই রাজত্ব করেছিলেন। কিন্তু প্রতাপাদিত্য কোনও শর্তেই মুঘল সাম্রাজ্যের কোনওরকম অধীনতা মানতে রাজি ছিলেন না। বাংলার বাকি রাজাদের মধ্যেও এই মানসিকতার স্ফূরণ হলে হয়তো বাংলা, শুধু বাংলা কেন ভারতের ইতিহাস অন্যভাবে রচিত হত।
সাত্যকি দেব
সত্যের সন্ধানে সনাতন
