বিধর্মীর অপপ্রচার খণ্ডন (পর্ব - ১)

 


পর্ব - ১
































🔴''হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেওয়ার পথ ও পদ্ধতি" বইয়ের ৯৮ পৃষ্ঠায় নিচের লেখাগুলো রয়েছে -

যেমন হিন্দুধর্মের ধর্মীয় গ্রন্থ বেদে তাওহীদ সম্পর্কে বলা হয়েছে :               


১। ঋগ্বেদ আছে:-

“একং ব্রহ্ম দ্বিতীয়ং নাস্তি, নেহ না নাস্তি কিঞ্চন।        অর্থ: পরমেশ্বর এক তিনি ব্যতীত কেহ নেই।

২। ঋগ্বেদে আছে:-

ত্বমগ্নে দ্রবিণোদা অরংকৃতে ত্বং দেবঃ সবিতা রত্নধা অসি।

ত্বং ভগো নৃপতে বম্ব ইশিষে ত্বং পা যুদমে যজ্ঞেহ বিধৎ॥

অর্থ:-পরমেশ্বর স্তবকারীকে ধনদানকারী এবং রত্ন ধারণকারী সবিতা

(প্রেরণকারী) দেব। তিনি মানুষের প্রতিপালনকারী, ভজনীয়, ধনের মালিক এবং গৃহে উপাসনাকারীকে রক্ষাকর্তা।°

৩। “একো দেবঃ সর্বভূতেষু গূঢ়ঃ সর্বব্যাপী সর্বভূতান্তরাত্মা।

কর্ম্মাধ্যক্ষঃ সর্ব ভুতাধিবানশ, সাক্ষী চেতাকেবলো নির্গুনশ্চ।।

তিনি এক, সকল প্রাণীর অন্তর্যামী পরমাত্মা, সকল প্রাণীর মধ্যে ব্যাপ্ত,

সর্বব্যাপক, কর্মে অধিষ্ঠাতা, সর্ব আশ্রয়স্থল, সর্বদর্শী চেতনা এবং গনাতীত। ব্রহ্মা আছেন বলিয়া কেহ বিশ্বাস করে, আবার কেহ তাঁহার অস্তিত্ব অস্বীকার করে। তিনি তাঁহার শত্রুর সম্পদসমূহকে বিনষ্ট করিয়া দেন। যে ব্যক্তি তাঁহাকে স্বীকার করে না, সেই তাঁহার শত্রু।

৪। শ্রীমদ্ভগবতগীতায় আছে-

ত্বমাদিদেবঃপুরুষঃপুরাণ

ড্রমস্য বিশ্বস্য পরং নিধানম।

বেত্তাসি বেদ্যঞ্চ পরঞ্চ ধাম

ত্বয়া ততং বিশ্বমনন্তরূপ।

অর্থ: তুমি অনাদিদেব; তুমি পুরুষ পুরাণ; তুমিই বিশ্বের পরম আশ্রয় স্বরূপ একমাত্র প্রভু । তুমিই একমাত্র জ্ঞাতব্য এবং জ্ঞেতা। তুমিই একমাত্র পরমস্থান। হে অনস্তরূপ, তুমি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে প্রসারিত ।

____________________________________________  

রেফারেন্স

কঠোপনিষদ ২:১:১১ 

(ঋগ্বেদ ২, মণ্ডল, ১ শ্লোক, ৭ নং মন্ত্র)             

-শ্বেতা, উপনিষদ অধ্যায় ৬, মন্ত্র১১

-শ্রীমদ্ভগবতগীতা-১১/৩ 



🔴 প্রথম লাইনে তাওহীদ নামে একটি শব্দ রয়েছে । এটি আরবি শব্দ, এর অর্থ হচ্ছে - এক ও অদ্বিতীয় । তাদের দাবি আমাদের গ্রন্থে ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয় । 

👉 পয়েন্ট ১ - আমরা কখন দাবি করেছি যে ঈশ্বর বহু ??

আমাদের শাস্ত্র অনুযায়ী ঈশ্বর এক এবং উনার রূপ বহু আর সেই রূপকেই আমরা মূর্তিরূপে ঈশ্বরজ্ঞানে পূজা করি । ( পরবর্তী পয়েন্টগুলোতে আরো পরিষ্কারভাবে বুঝানো হবে )


👉 পয়েন্ট ২ - তাদের প্রথম রেফারেন্স খেয়াল করুন আদৌ ঐরকম কোনো শ্লোক 'কঠোপনিষদ ২:১:১১' এ রয়েছে কি না সেটাই দেখাবো এবার ( রেফারেন্সটা আপনাদের বুঝিয়ে দিচ্ছি আপনারা মিলিয়ে দেখতে পারেন - কঠোপনিষদ ২/১/১১ অর্থাৎ কঠোপনিষদের দ্বিতীয় অধ্যায় এর প্রথম বল্লীর ১১ নং শ্লোক ) ।

নিচে শ্লোকটি শব্দার্থ সহ দেওয়া হলো ইচ্ছা হলে শব্দার্থ অংশটুকু এড়িয়ে সরাসরি সরলার্থ পড়তে পারেন - 

মনসৈবেদমাপ্তব্যং নেহ নানাহস্তি কিঞ্চন।

মৃত্যোঃ স মৃত্যুং গচ্ছতি য ইহ নানেব পশ্যতি৷ ( কঠ - ২/১/১১ )

শব্দার্থ: মনসা এব-(শুদ্ধ) মন দ্বারা ; ইদম্ আপ্তব্যম্-এই পরমাত্মা তত্ত্ব প্রাপ্তি- যোগ্য ; ইহ-এই জগতে (এক পরমাত্মার অতিরিক্ত); নানা-ভিন্ন-ভিন্ন ডাব; কিঞ্চন=কিছুই; ন অস্তি-নেই; (এজন্য) যঃ ইহ-যে এই জগতে; নানা ইব-বিভিন্ন প্রকার ; পশ্যতি দেখে ; সঃ-সেই ব্যক্তি ; মৃত্যোঃ-মৃত্যু থেকে ; মৃত্যুম্ গচ্ছতি-মৃত্যুতে গমন করে অর্থাৎ বারবার জন্মায় এবং মরে।

সরলার্থ— শুদ্ধচিত্ত ভিন্ন পরমাত্মার তত্ত্ব জানা যায় না, তাই শুদ্ধচিত্ত ব্যক্তি জানতে পারে যে, এই জগৎ একমাত্র পূর্ণ ব্রহ্ম পরমাত্মা দ্বারাই পরিপূর্ণ। সব কিছু তাঁরই স্বরূপ। এখানে বা অন্যত্র পরমাত্মা ভিন্ন অন্য কিছুই নেই। যে ব্যক্তি এই সবে নানাত্ব দেখে, অর্থাৎ ব্রহ্ম এবং জগৎকে ভিন্ন ভিন্ন দেখে সে বারবার মৃত্যুর কবলে পড়ে অর্থাৎ বারবার জন্ম নেয় ও মৃত্যুকে প্রাপ্ত হয় ৷৷১১।।

♦️তারা বলেছে ঋগবেদের মন্ত্র অথচ রেফারেন্স দিয়েছে কৃষ্ণ যজুর্বেদোক্ত কঠোপনিষদের তাও আবার নিজের মনগড়া তৈরি মন্ত্র ।

 

এবার কঠোপনিষদ থেকেই প্রমাণ দিচ্ছি যে ঈশ্বর একের মধ্যেই বহু - 


একস্তথা সর্বভূতান্তরাত্মা রূপং রূপং প্রতিরূপো বহিশ্চ৷ ( কঠ - ২/২/৯ )

( মন্ত্রের সরলার্থ বড় হওয়ায় শুধুমাত্র মন্ত্রের দ্বিতীয় লাইন এবং দ্বিতীয় লাইনের সরলার্থ দিচ্ছি ) 

সরলার্থ - সকল জীবের মধ্যে বিরাজমান পরমব্রহ্ম একক হওয়া সত্ত্বেও ভিন্ন ভিন্ন রূপে প্রকাশিত হন ।

♦️ তাদের আরেকটি ভুল - ৩ নং মন্ত্রের অনুবাদে ' ব্রহ্মা ' শব্দটির উল্লেখ রয়েছে কিন্তু সেখানে ব্রহ্ম হবে । এ থেকে পরিষ্কার - তারা ব্রহ্মা আর ব্রহ্মের পার্থক্য বুঝে না আবার আমাদের শাস্ত্র নিয়ে বই লিখেছে !


👉 পয়েন্ট ৩ - তারা বানোয়াট মন্ত্র দিয়ে যেটা বুঝাতে চেয়েছেন সেটি মূলত অথর্ববেদ সংহিতার শৌনক শাখার কয়েকটা মন্ত্রে ফোটে উঠেছে - 

ন দ্বিতিয়া ন তৃতীয়াশ্চতুর্থো নপ্যুচ্যতে যঃ এতম দেবমেকবৃত্তিম বেদ।(২)

ন পঞ্চমো ন ষষ্ঠঃ সপ্তমো নপ্যুচ্যতে যঃএতম দেবমেকবৃত্তিম বেদ।(৩)

নাষ্টমো ন নবমো দশমো নপ্যুচ্যতে যঃ এতম দেবমেকবৃত্তিম বেদ। (৪)

(অথর্ববেদ - শৌনক শাখা - সায়ণ ভাষ্যনুবাদ - ১৩/৫/২-৪)

সরলার্থ - সেই একবৃত অর্থাৎ ব্রহ্মকে দ্বিতীয়, তৃতীয় বা চতুর্থ বলা যায় না । তাকে পঞ্চম, ষষ্ঠ বা সপ্তমও বলা যায় না । এমনকী অষ্টম, নবম ও দশমও বলা যায় না । তিনি এক এবং অদ্বিতীয় ।

ব্যাখা - পরমাত্মা এক এবং অদ্বিতীয় । তাঁকে সংখ্যা দ্বারা প্রকাশ করা যায় না ।

এটা নিয়ে আলোচনার শুরুতেই বিশ্লেষণ করা হয়েছে তাই বেশি কিছু আর বলছি না ।


👉 পয়েন্ট ৪ - চলুন এবার দেখে নেওয়া যাক - বেদে কোথাও ঈশ্বরের একের মধ্যে বহু রূপের উল্লেখ আছে কি না ?? 

ইন্দ্রং মিত্রং বরুণমণিমাহুরথো 

দিব্যঃ স সুপর্ণো গরুস্থান । 

একং সদ বিপ্রা বহুধা বদন্ত্যমিং 

যমঃ মাতরিশ্বানমাছঃ ||

সরলার্থ - তাঁরা ( যারা বুদ্ধিমান ) এঁকে ( ঈশ্বরকে ) বলেন ইন্দ্র, মিত্র, বরুণ, অগ্নি এবং তিনিই স্বর্গীয় শোভনপক্ষযুক্ত গরুত্মান (সূর্য)। একই অস্তিত্বকে কবিগণ নানাভাবে বর্ণনা করেন, বলেন (তিনি) অগ্নি, যম এবং মাতরিশ্বন। ( ঋগ্বেদ- শাকল শাখা -১/১৬৪/৪৬ )

সরলার্থ পড়লেই বুঝা উচিৎ , একই ঈশ্বরের বহু রূপ বেদের মন্ত্র বা সংহিতা ভাগেই উল্লেখিত । 


🔴 মন্তব্য : ''হিন্দু ভাইদের দাওয়াত দেওয়ার পথ ও পদ্ধতি'' বইটির উক্ত পৃষ্ঠার বাকী মন্ত্রগুলোর অর্থ আমাদের অর্থের সঙ্গে ঘুরে ফিরে একই ( যেসব ভুল ছিলো সেগুলো উপরে দেওয়া হয়েছে ) কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য ছিলো ঈশ্বর আর তাদের উপাস্য আল্লাহকে এক প্রমাণ করা এবং ঈশ্বরের বহু রূপ তথা সাকার রূপকে ( সাকার রূপ নিয়ে অন্যদিন আলোচনা করবো ) ভুল প্রমাণ করা ! তাদের ব্যাখ্যার ধরন যে ভুল সেগুলোর প্রমাণ আমি উপরে দিয়েছি, রেফারেন্স ও শ্লোকের ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে । 


🌟 ভুল ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন 🙏

জয় শ্রী রাম 🙏

জয় মহাকাল 🙏


✍️ সাত্যকি 

Admin at - জ্ঞানচর্চা (sss) 

Senior researcher at - Research Committee of Santan Scripture (of sss)

।ॐ।সত্যের সন্ধানে সনাতন।ॐ। 


facebook group

facebook page


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন



ধর্মীয় বাণী/উপদেশ

"দেবী! তুমি স্বাহা, তুমি স্বধা এবং তুমিই বষটকার। স্বরও তোমারই স্বরূপ। তুমিই জীবনদায়িনী সুধা। নিত্য অক্ষর প্রণবের অকার, উকার, মকার-এই তিনমাত্রারূপে তুমিই স্থিত, আবার এই তিন মাত্রা ছাড়া বিন্দুরূপা যে নিত্য অর্দ্ধমাত্রা-যাকে বিশেষরূপে আলাদাভাবে উচ্চারণ করা যায় না, তাও তুমিই। " (শ্রী শ্রী চন্ডীঃ ১/৭৩-৭৪)