পূর্বের পর্বে আমরা আধুনিক বিজ্ঞান অনুযায়ী ভ্রূণতত্ত্ব ও শ্রীমদ্ভাগবত মহাপুরাণ (বিষ্ণু ভাগবত পুরাণ) অনুযায়ী ভ্রূণতত্ত্ব উপস্থাপন করে উভয়ের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করে সাদৃশ্য নিরুপণ করার চেষ্টা করেছি। কেউ যদি ১ম পর্বটি পড়ে না থাকেন তবে অবশ্যই পূর্বে ১ম পর্বটি পড়ে আসবেন। ১ম পর্বের লিংক কমেন্ট বক্সে দেওয়ার চেষ্টা করব। এই পর্বে থাকছে কৃষ্ণ যজুর্বেদের অন্তর্গত গর্ভ উপনিষদ হতে ভ্রূণতত্ত্ব নিরুপণ। এই পর্বে আমরা গর্ভ উপনিষদ অনুযায়ী জানতে পারবো কীভাবে মাতৃগর্ভে একটি শিশুর জন্ম হয়, শিশুটি কী করে ভ্রূণ অবস্থা হতে ধীরে ধীরে বিকাশ লাভ করে, শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণের পিছের রহস্য, শিশু যমজ হওয়ার রহস্য, গর্ভাবস্থায় থাকা শিশুর মানসিক অবস্থা এবং শিশুর ভূমিষ্ঠাবস্থা। আলোচনার পূর্বে আলোচ্য বিষয়ের উৎসগ্রন্থ গর্ভ উপনিষদ সম্পর্কে সংক্ষেপে জেনে যাওয়া যাক।
গর্ভ উপনিষদ হচ্ছে কৃষ্ণ যজুর্বেদের অন্তর্গত একটি গৌণ উপনিষদ। সনাতন ধর্মের প্রামাণ্য ১০৮ টি উপনিষদের মধ্যে গর্ভ উপনিষদ অন্যতম। এই উপনিষদের বক্তা হচ্ছেন ঋষি পিপ্পলাদ। উপনিষদটির আলোচ্য বিষয়বস্তু হচ্ছে মানবদেহের উৎপত্তি, গঠন ও উপাদান নিয়ে আলোচনা। এই উপনিষদটির উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষ যাতে নিজের শরীরকে যথাযথভাবে জেনে, শরীরের প্রকৃতি অনুধাবন করতে পেরে বৈরাগ্য ধারণ করে এবং পরম সত্য ব্রহ্মকে জানার চেষ্টা করতে পারে।
এবার সরাসরি চলে আসি আমাদের মূল প্রসঙ্গে। আমরা সকলেই জানি পুরুষের শুক্র বা রেতঃ এর মধ্যেই পরবর্তী প্রজন্মের মূল বীজ লুকিয়ে থাকে। প্রথমেই গর্ভ উপনিষদ অনুসারে পুরুষের দেহে শুক্র উৎপত্তির প্রক্রিয়া দেখে নেওয়া যাক। গর্ভ উপনিষদের ৫ম মন্ত্রে এই বিষয়ে বলা হচ্ছে—
সপ্তধাতু কিমিতি। কস্মাৎ শুক্লো রক্তঃ কৃষ্ণো ধূম্রঃ পীতঃ কপিলঃ পাণ্ডুর ইতি। যথা দেবদত্তস্য দ্রব্যাদিবিষয়া জায়ন্তে। পরস্পরং সৌম্যগুণত্বাৎ ষড়্বিধো রসঃ। রসাৎ শোণিতং, শোণিতাৎ মাংসাং, মাংসান্মেদো, মেদসঃ স্নায়বঃ, স্নায়ুভ্যোহস্থীনি, অস্থিভ্যো মজ্জা, মজ্জাতঃ শুক্রং, শুক্রশোণিতসংযোগাৎ আবর্ততে গর্ভো, হৃদি ব্যবস্থাং নয়তি। হৃদয়েহন্তরাগ্নিঃ, অগ্নিস্থানে পিত্তং, পিত্তস্থানে বায়ুঃ, বায়বো হৃদয়ং। প্রাজাপত্যাৎ ক্রমাৎ॥
সরলার্থ:-
জিজ্ঞাসুর প্রশ্ন—সপ্তধাতুময় শরীর যে বললেন (পূর্বের একটি মন্ত্রে উল্লেখিত হয়েছে মানবশরীর সপ্তধাতুনির্মিত।), সেই সাতটি ধাতু কি কি? তা শরীরে কীভাবেই বা সমন্বিত হয়ে আছে? আর তারা কী করছে?
ঋষিবর বললেন—শুক্ল,রক্ত,কৃষ্ণ,ধূম্র,পীত,কপিল আর পাণ্ডুর, এই সাতটি বস্তু হলো সপ্ত পদার্থ। শরীর এই সবকটি ধাতুকে সমানভাবে উপভোগ করে। কেমনভাবে উপভোগ করে? রসের মাধ্যমে। অন্নের যেমন তরি-তরকারি, এও ঠিক তেমনি। মানুষ যা কিছু খায় তা থেকে প্রথমে উৎপন্ন হয় রস—যে ছটি রসের কথা আগে বলেছি(পূর্ববর্তী মন্ত্রে উল্লেখিত ৬ টি রস-মধুর, অম্ল, লবণ, তিক্ত, কটু, কষায়), সেই সব রস। এই রস থেকেই ধাতুদের উৎপত্তি। রসই শরীরে গিয়ে ধাতুতে রূপান্তরিত হয়। যেমন—রস থেকে শোণিত বা রক্ত, শোণিত থেকে মাংস, মাংস থেকে মেদ, মেদ থেকে স্নায়ু, স্নায়ু থেকে অস্থি, অস্থি থেকে মজ্জা, মজ্জা থেকে শুক্র বা রেতঃ। স্ত্রীশরীরে যে গর্ভসঞ্চার হয়, তা শুক্রশোণিতের সংযোগে। জানবে, এই সবকটি ধাতুর একটিই মাত্র আবাসস্থল। তা হচ্ছে হৃদয়।
জিজ্ঞাসুর প্রশ্ন— সপ্তধাতু ছাড়া হৃদয়ে আর কী আছে?
ঋষিবর বললেন—হৃদয় হল অগ্নিস্থান। অন্তরাগ্নি এখানেই বিরাজমান। এই অগ্নিস্থানে আছে পিত্ত আর বায়ু। পিত্ত আর বায়ু—এই দুই-ই আছে হৃদয়ে। এই সবই কিন্তু জানবে,প্রাজাপত্যক্রমে প্রবর্তিত হয়ে আছে। প্রাজাপত্যক্রম কী? প্রজাপতির সৃষ্টি লীলাবিলাস—তিনি সৃষ্টিভিলাসে নিজেকে দুভাগ করলেন—বিযুক্তি নয়, সংযুক্তির মধ্যেই। একভাগ পতি, একভাগ পত্নী। পিতৃহৃদয়ও ঠিক এইভাবেই বিভক্ত হয়ে আছে (একটি হৃদয়েরও বাম ও ডান দুটি ভাগ রয়েছে যা পতি ও পত্নীর মতোই একে অপরের পরিপূরক)।
এরপর ৬ষ্ঠ মন্ত্রে ঋষি পিপ্পলাদ আমাদের মূল লক্ষ্যবস্তু ভ্রূণতত্ত্বের জ্ঞান বিশ্লেষণ করছেন অর্থাৎ কীভাবে পুরুষের শুক্র স্ত্রীদেহের মধ্যে প্রবেশ করে সেখান হতে ধীরে ধীরে মানবশিশুর উৎপত্তি হয় তা ব্যাখ্যা করছেন। ৬ষ্ঠ মন্ত্রটি হচ্ছে—
ঋতুকালে সম্প্রয়োগাদেক রাত্রোষিতং কললং ভবতি, সপ্তরাত্রোষিতং বু্দ্বুদং, অর্ধমাসাভ্যন্তরে পিণ্ডং, মাসাভ্যন্তরে কঠিনং, মাসদ্বয়েন শিরঃ, মাসত্রয়েণ পাদদেশঃ, চতুর্থে গুল্ফকটিপ্রদেশাঃ, পঞ্চমে পৃষ্ঠাংশঃ, ষষ্ঠে মুখনাসিকাক্ষিশ্রোত্রানি, সপ্তমে জীবনে সংযুক্তঃ, অষ্টমে সর্বলক্ষণ সম্পূর্ণঃ॥
সরলার্থ:- ঋতুমতী বা ঋতুস্নাতা পত্নীতে উপগত হওয়াই গর্ভসঞ্চারের প্রকৃষ্ট কাল। পুরুষই এই সময়েই স্ত্রীযোনিতে জীববীজ নিষেক করলে স্ত্রী অবশ্যই গর্ভধারণ করবে। পুরুষের বীর্য স্ত্রীগর্ভে নিষিক্ত হবার ১ রাত পরে স্ত্রীরেতঃর (উল্লেখ্য বীর্য/শুক্র হচ্ছে পুরুষের রেতঃ, রজঃ বলা হয় স্ত্রীর রেতকে) সঙ্গে মিশে তার তারল্যকে কাটিয়ে একটু ঘন গর্ভাশয় হয়। ৭ রাতের পর সেই গর্ভাশয়টি নেয় বর্তুলের আকার (গোলাকৃতি বুদবুদ জাতীয়)। ১৫ রাত পর সেটি হয় পিণ্ডাকৃতি। ১ মাস পর সেই পিণ্ড অর্থাৎ ডেলাটি নিরেট কঠিন হয়। ২ মাস পরে, তাতে প্রথম উৎপন্ন হয় শির বা মাথা, ৩ মাস পরে—পা, ৪ মাস পরে—গুল্ফ(গোড়ালি), উদর(পেট), কটিদেশ(কোমর)। ৫ মাস যখন, তখন উৎপন্ন হয় পিঠ। ৬ মাসে—একই সঙ্গে মুখ-নাক-চোখ-কান। যখন ৭ মাস পূর্ণ হয়, তখন গর্ভাশ্রিত সেই দেহে জীবনের সঞ্চার হয়। ৮ম মাসে গর্ভস্থ সন্তানের সব লক্ষণ সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে॥
এরপর ৭ম মন্ত্রে শিশু পুত্র কিংবা কন্যা কিংবা নপুংসক হওয়ার পিছের রহস্য ব্যাখ্যা করছেন—
পিতূরেতোহতিরেকাৎ পুরুষঃ, মাতৃরেতোহতিরেকাৎ স্ত্রী, উভয়োর্বীজতুল্যত্বাৎ নপুংসকং, ব্যাকুলিতমনসোহন্ধাঃ, খঞ্জাঃ, কুব্জা, বামনা ভবন্তি। অন্যোহন্যবায়ু পরিপীড়িতশুক্র দ্বৈধ্যদ্দ্বিধা তনুঃস্যাদ্ যুগ্মাঃ প্রজায়ন্তে। পঞ্চাত্মকঃ সমর্থঃ পঞ্চাত্মিকা চেতসা বুদ্ধির্গন্ধরূপাদি জ্ঞানাক্ষরং ওঙ্কারং চিন্তয়তীতি। তদেকাক্ষরং জ্ঞাত্বাষ্টৌ প্রকৃতয়ঃ ষোড়শ বিকারাঃ শরীরে তস্যৈব দেহিনঃ॥
সরলার্থ:- এখন জাত সন্তান নানারকমের হয় কেন? পুরুষ শুক্র যদি স্ত্রীরেতঃ (রজঃ) থেকে বেশি শক্তিশালী হয় তবে জাত সন্তান হবে পুত্র। আর যদি বিপরীত হয়, তাহলে—কন্যা। যদি দুই রেতঃই সমান হয় (শুক্র ও রজঃ উভয়ের অন্তর্নিহিত শক্তি যদি সমান হয়), কোন ইতর-বিশেষ না থাকে, তাহলে জাত সন্তান নপুংসক। যদি দুজনার রেতেই কোন বৈকল্য থাকে, তবে জাত সন্তান অন্ধ হতে পারে, খোঁড়া হতে পারে, কুঁজো হতে পারে, খর্বাকৃতি বামনও হতে পারে। পুরুষের জীববীজ স্ত্রীগর্ভে নিষিক্ত হবার সঙ্গে সঙ্গে গর্ভস্থ বায়ুর চাপ যদি অধিক পরিমাণে পায় তবে গর্ভেই তা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে যায়। ফলে ভূমিষ্ঠ হয় যমজ-সন্তান। পঞ্চভূতময় এই পিণ্ডই দেহের আকার নিয়ে চৈতন্যসত্ত্বা দিয়ে সবকিছু চিন্তা করে। চিন্তা হল বুদ্ধির উন্মেষ। শব্দ-স্পর্শ-রুপ-রস-গন্ধ—এই পাঁচটি বিষয় হল বুদ্ধির বিষয়। চিন্তা করে একাক্ষর ওঙ্কার। প্রণবরুপী ব্রহ্মকে চিন্তা করতে করতে তারই মধ্যে তখন জন্মায় অষ্টপ্রকৃতি, ষোড়শ বিকার॥ (অর্থাৎ অব্যক্ত-তিন গুণের সাম্যাবস্থা, মহতত্ত্ব, অহংকার, পৃথিবী, বায়ু, আকাশ, জল ও অগ্নি নিয়ে ৮ প্রকৃতি। এর ১৬ বিকৃতি হল— ৫ জ্ঞানেন্দ্রিয়, ৫ কর্মেন্দ্রিয়, ৫ ইন্দ্রিয়ের শব্দাদি বিষয় এবং মন।)
এরপর ৮ম মন্ত্রে ঋষি বর্ণনা করছেন গর্ভস্থ শিশুর পুষ্টি লাভের প্রক্রিয়া ও মানসিক অবস্থা—
অথ মাত্রাশিত-পীতনাড়ীসূত্রগতেন প্রাণ আপ্যায়তে। অথ নবমে মাসি সর্বলক্ষণজ্ঞান সম্পূর্ণা ভবতি, পূর্বজাতিং স্মরতি, শুভাশুভঞ্চ কর্ম বিন্দতি॥
সরলার্থ:- মা যা কিছু খায়, পান করে, তারই নির্যাস নিয়ে গর্ভস্থ শিশু শুধু জীবনধারণই করে না, নিজের পুষ্টিসাধনও করে। কীভাবে গর্ভস্থ শিশু মায়ের অন্নরস নেয়? শিশুর নাভির সঙ্গে যুক্ত মাতৃহৃদয় নির্গত যে পীত নাড়ী আছে, সেই নাড়ীপথেই অন্নরস শিশুদেহে প্রবেশ করে তার প্রাণ সংরক্ষণ এবং পুষ্টিসাধন করে। এইভাবে ৯ মাস গর্ভবাস যখন পূর্ণ হয়, তখন পূর্ণাবয়ব নিয়ে সবকটি ইন্দ্রিয়যুক্ত এবং জ্ঞানসম্পন্ন হয়। জ্ঞান-বুদ্ধি-দর্শন নিয়ে গর্ভে সে পরিভ্রমণ করে। আর এই সময়েই তার স্মৃতিপথে ভেসে ওঠে পূর্ব-পূর্ব জন্মের চিত্র, স্মরণে আসে জন্ম-জন্মান্তরের যাবতীয় শুভ-অশুভ কর্ম॥
তখন সে কী ভাবে? কী বলে আপন মনে? সেটাই ৯ম মন্ত্রে বলা হচ্ছে—
পূর্বযোনিসহস্রানি দৃষ্টবা চৈব ততো ময়া। আহারা বিবিধা ভুক্তাঃ পীতা নাধাবিধ স্তনাঃ। জাতশ্চৈব মৃতশ্চৈব জন্ম চৈব পুনঃপুনঃ যন্ময়া পরিজনস্যার্থে কৃতং কর্ম শুভাশুভম্। একাকী তেন দহ্যেহহং গতাস্তে ফলভোগিনঃ। অহো দুঃখোদধৌ মগ্নো ন পশ্যামি প্রতিক্রিয়াম্। যদি যোন্যাঃ প্রমুচ্যেহহং তৎ প্রপদ্যে মহেশ্বরম্। অশুভক্ষয়কর্তারং ফলমুক্তিপ্রদায়কম্। যদি যোন্যাঃ প্রমুচ্যেহহং তৎ প্রপদ্যে নারায়ণম্। অশুভক্ষয়কর্তারং ফলমুক্তিপ্রদায়কম্। যদি যোন্যাঃ প্রমুচ্যেহহং তৎ সাংখ্যং যোগমভ্যাসে। অশুভক্ষয়কর্তারং ফলমুক্তিপ্রদায়কম্। যদি যোন্যাঃ প্রমুঞ্চামি ধ্যায়ে ব্রহ্ম সনাতনম্॥
সরলার্থ:- হায়, ইতিপূর্বে কত হাজার হাজার বার আমি যোনিভ্রমণ করেছি, করেছি গর্ভবাস। কতরকমের কত অন্নই না আমায় খেতে হয়েছে, পান করতে হয়েছে কত না স্তন! (অশুভ কর্মের ফল হিসাবে মনুষ্যেতর জন্মও গ্রহণ করতে হয় তা শ্রুতিরই কথা। সে ক্ষেত্রে কুকুর-শুকর জন্মও যেমন নিতে হয়, তেমনি তাদের আহার্য বস্তু গ্রহণ, স্তন-পানও করতে হয়।) আমি কতবারই না জন্মগ্রহণ করেছি, কতবারই না মরেছি। জন্ম-মৃত্যুর আবর্তে কত-কতবার পাক খাচ্ছি। জন্মগ্রহণ করে আমি পরিজন-প্রতিপালন করতে গিয়ে কত কাজই না করেছি—কোনটা ভাল, কোনটা মন্দ। যাদের জন্য করেছি, তারা চলে গেছে অন্যত্র। আর আমি একা তার ফলভোগ করে চলেছি। জন্মান্তরের যন্ত্রণা, গর্ভবাস ভোগ করছি। যদি একবার এই যোনি অবরোধ থেকে মুক্তি পাই, তাহলে অশুভকর্মের ফল-বিনাশকারী মুক্তিদায়ক মহেশ্বরের সেবা করি, নারায়ণের শরণ নিই, সাংখ্যযোগ-যুক্ত হই, নিত্য-সত্য ব্রহ্মের ধ্যান করি॥
অবশেষে ১০ম মন্ত্রে ঋষি বলেছেন শিশুর ভূমিষ্ঠ হওয়ার ব্যাপারে—
অথ যোনিদ্বারং সম্প্রাপ্তো যন্ত্রেণাপীড্যমানো মহতা দুঃখেন জাতমাত্রস্তু বৈষ্ণবেন বায়ুনা সংস্পৃষ্টঃ। তদা ন স্মরতি জন্ম-মরণানি, ন চ কর্ম শুভাশুভং বিন্দতি॥
সরলার্থ:- এইভাবে পরিভ্রমণ করতে করতে একসময় যোনিপথ দিয়ে অশেষ যন্ত্রণার পীড়া নিয়ে নির্গত হয়ে স্পর্শ করল মাটি। ভূমিষ্ঠ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বহির্জগতের বাতাস আবৃত করল তাকে বৈষ্ণবী মায়ায়। (মোহাচ্ছন্ন শিশুর) তখন আর স্মরণে আসে না গর্ভবাসকালে খেদের কথা; ভুলে যায় শুভাশুভ কর্মের বাদ-বিচার (এবং গর্ভকালীন সংকল্প)॥
এই ছিলো আমাদের "সনাতন শাস্ত্রে ভ্রূণবিদ্যা" বিষয়ক যাবতীয় আলোচনা। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাদের যারা যারা এই পর্যন্ত লেখাটি পড়েছেন। ভ্রূণবিদ্যা বিষয়ক তথ্য আরো কিছু শাস্ত্রেও পাওয়া যায়, সেগুলোও পরবর্তীতে কোনো এক সময় উপস্থাপন করার চেষ্টা করব। তবে আপাতত এই পর্যন্তই আমাদের আলোচ্য বিষয় দুইটি পর্বে সমাপ্ত করে আজকের লেখাটি ভগবান শ্রীনারায়ণের চরণে সমর্পিত করে এখানেই শেষ করছি। আমাদের সনাতন ধর্মের প্রাচীন মুনি-ঋষিদের চিন্তা ও দর্শন কতটা গভীর ও সূক্ষ্ম ছিল আশা করি এই দুইটি পর্বের আলোচনা দেখার পর তা পাঠক কিছুটা হলেও অনুধাবন করতে পারবেন। ভুল-ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ থাকবে। ধন্যবাদ।
🖋️অর্ক বিশ্বাস
গবেষক, সনাতন শাস্ত্র গবেষণা কমিটি
।ॐ।সত্যের সন্ধানে সনাতন।ॐ।
